আখ্যানতত্ত্বের আলোকে কাঞ্চনগ্রাম উপন্যাস
Abstract
আধুনিক বাংলা উপন্যাসের পূর্বরূপ আমরা পাই মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ও পাঁচালীতে। কবিকঙ্কণ মুকুন্দরামকে বলাই হয় ঔপন্যাসিকদের পূর্বসূরি। দেব-দেবীর মাহাত্ম্যকীর্তনের পাশাপাশি লেখকের স্বতঃস্ফূর্ত ভাবধারার প্রকাশক এই ধরনের সাহিত্যকর্মগুলো। কাহিনিবিন্যাস, চরিত্রায়ণ ও আঙ্গিক কাঠামো পর্যালোচনা করে এই সাহিত্যকর্মগুলোকে বাংলা উপন্যাসের প্রাথমিক প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করা অমূলক হবে না। ঊনবিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে বঙ্কিমচন্দ্রের হাতে সূচনা হয় সার্থক বাংলা উপন্যাসের। রচনারীতির ক্ষেত্রে বঙ্কিম আশ্রয় করেছিলেন ইউরোপীয় শিল্পাঙ্গিককে, পাশ্চাত্যের সাহিত্যের বিভিন্ন ফর্ম যেমন – ট্র্যাজেডি, রোমান্স প্রভৃতির সমাবেশ ঘটেছিল তাঁর রচনায়। এই ধারা চলেছিল বেশ কয়েক দশক। উপন্যাসের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ বিশ্লেষণ করেন চরিত্রের মনস্তত্ত্বকে, শরৎচন্দ্র চরিত্রকে ঘিরে কাহিনি বয়ন করেন। অপরাপর লেখকদের মধ্যেও লক্ষ করা যায় যে, একটা প্লটকে স্থির করে তাঁরা উপন্যাস লিখেছেন। ১৯৩০-৪০-এর পর থেকে বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে দৃষ্ট হয় উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। ইউরোপীয় ধারা থেকে ক্রমশ দেশজ ধারায় ফিরে আসার প্রবণতা লক্ষণীয় সতীনাথ ভাদুড়ীর ঢোঁড়াই চরিতমানস-এ এসে। এখানে লেখক প্লটকে ভেঙে দিয়ে মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের আঙ্গিকে কথকতাধর্মী রীতিতে কাহিনি বিন্যস্ত করেছেন। এই রীতির উপন্যাসকেই আপাতভাবে আখ্যান হিসেবে ধরা হয়। শামসুদ্দীন আবুল কালামের কাঞ্চনগ্রাম উপন্যাসটিতে এই দেশজ ধারার আখ্যান-প্রবণতা অন্বেষণই আমাদের লক্ষ্য।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2013 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.