কিশোর-তিতাস-অনন্ত
Abstract
উপন্যাসের ডিসকোর্সে সংরক্ষিত থাকে এর স্বভাব, প্রবণতা ও পরিণতি। তাই নদীকে ঘিরে নদীরই মতো এঁকেবেঁকে যে উপন্যাসের বিকাশপথ নির্ধারিত হয়, তার নান্দনিক ব্যবচ্ছেদ সংগত কারণেই হয়ে ওঠে স্বতন্ত্র। এমনই নদীস্বভাবী এক উপন্যাস তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৫৬)। ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ তাঁর ব্যক্তি-অভিজ্ঞতা আর সাহিত্য- অভিজ্ঞতাকে এই উপন্যাসে এক অভিন্ন স্রোতধারায় বাহিত করতে সক্ষম হয়েছেন। উপন্যাসের ন্যারেটিভের পরতে পরতে ঔপন্যাসিক সুবিন্যস্ত করেন তাঁর মনোপলব্ধিজাত বীক্ষা। বিশেষ করে, এপিসোডিক উপন্যাসের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় যে, সংশ্লিষ্ট রচনাটির পর্ব থেকে পর্বান্তরের ক্রমধারাবাহিকতায় লেখক আত্মজ অভিব্যক্তির প্রাতিস্বিক রূপায়ণে নিয়োজিত হন। আমাদের আলোচ্য উপন্যাসটিও এপিসোডিক হিসেবে শনাক্তকৃত। উপন্যাসটিতে অদ্বৈত তিতাস নদীর দেখিয়ে যাওয়া পথে একের পর এক এপিসোড পূর্ণ করেন এবং এভাবেই তিনি নিজ যাপিত জীবন আর ভাবী সময়কে যুগল স্রোতে বাহিত করেন; এর মধ্য দিয়ে জবাব পেতে চান বিনির্মিত আত্মজিজ্ঞাসার। তাই উপন্যাস পাঠের সূত্র ধরে পাঠক জিজ্ঞাসু হয়ে ওঠে এই ভেবে: তিতাস কি সত্যিই কেবল একটি নদীর নাম, না-কি নদীময় এক অফুরান সজীবতার শিল্পকাহন। নদী-নিয়ন্ত্রিত জীবন কাঠামোয় এই নিগূঢ় প্রাণময়তার অনুসন্ধানে বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রীয় মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকবে দুটি মানুষ কিশোর আর অনন্ত। কীভাবে গোষ্ঠীজীবন সময়ান্তরের অভিযাত্রায় অংশ নেয়, বারবার পালটে নেয় তার গতিপথ নদীবেষ্টিত জীবন-সংহিতার অপূর্ব নির্মাণ-নৈপুণ্যে কিশোর এবং অনন্তকে আশ্রয় করে তা-ই ঠাস-বুনোটে ধারণ করে আছে এই উপন্যাস।
Downloads
Downloads