শম্ভু মিত্রের চাঁদ বণিকের পালা: অন্ধকারে আলোর অন্বেষণ
Abstract
অধিকাংশ মানুষের অবচেতন মনে ধর্মীয় মাহাত্ম্যের প্রভাব একটি সাধারণ বিষয়। বর্তমান যুগের বিরূপ পরিবেশে মুক্তি-আকাঙ্ক্ষিত মানুষের কাছে মিথের শরণও তেমনি পরম সত্য। জীবনবিশ্বাসের অনেকাংশ মিথের সঙ্গে অঙ্গীভূত বলেই মিথই হয়ে আছে মুক্তি-অন্বেষকদের অবিনশ্বর আকর। সাহিত্যিকগণ তাই মিথযুগের চিত্তধর্মকে নিজ যুগে প্রতিস্থাপিত করে মিথকে তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলেন। আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের কাছে মিথিক তাৎপর্যের পাশাপাশি মিথের আকরণে বিধৃত নরনারীর জীবন-অধ্যবসায়ের কাহিনির মূল্য অপরিমেয়। কারণ ‘আজকের কালপরিধির মানুষ পেয়েছে চিত্তের অন্তর্দৃষ্টি, সৌন্দর্যবোধের পরম্পরা, অতীন্দ্রিয় অনুভব এবং মূলত বিজ্ঞানদৃষ্টি। ... বিশেষ কোন স্বতঃসিদ্ধ বিধানের প্রতি অন্ধ দায়বদ্ধতা তার নেই মিথ বিনির্মাণ এখন আরও গভীরতর মাত্রায় বিশিষ্টতাপ্রাপ্ত'। শিল্পী-সাহিত্যিকগণও দেশ-কালের সংকটে জাতীয় ঐতিহ্য-ইতিহাসের গুপ্ত আলো বিভাসিত করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। মনসামঙ্গল পূর্ববাংলার একটি বহুল পরিচিত লৌকিক কাহিনি; বাংলার কবি-সাহিত্যিকগণ এর মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন আপন দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থনসূত্র। নাট্যকার শম্ভু মিত্র (১৯১৫-১৯৯৭) বর্তমানের বিপন্নতা থেকে মুক্তি পেতে চাঁদ বণিকের পালা নাটকে (রচনা ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৬, প্রকাশ ১৯৭৭) শরণাপন্ন হন মনসা-মিথের। তবে ধর্মের আবরণে প্রচলিত মাহাত্ম্যের বেড়িতে আবদ্ধ নন তিনি। তাঁর এ নাটকে বাংলা দেশজ মিথের পটভূমিতে স্বকালের অন্ধকারে স্বকীয়বোধের, শুভালোকের উদ্ভাসন ঘটেছে। এ নাটকের চাঁদ সদাগর সম্ভ্রান্ত কুলোদ্ভূত এক ব্যক্তিত্ববান পুরুষ। অন্ধকারের দেবী মনসার বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম বংশীয় অহমজাত। অন্ধকারের কাছে চাঁদের পতন এ নাটকে যেমন ট্রাজিক পরিণতির ইঙ্গিত বহন করে তেমনি তার পুনরায় সমুদ্রযাত্রার প্রতিজ্ঞায় প্রজ্বলিত হয় দৃপ্ত পৌরুষের মশাল। এক্ষেত্রে শম্ভু মিত্র সমকালের অন্ধভূমিতে দাঁড়িয়ে দুস্তর, ফেনিল পারাবার পাড়ি দিয়ে পরম আলোর জগতের অন্বেষক। চাঁদ বণিকের পালা নাটকটি তাঁর প্রজ্ঞা-উদ্ভূত এবং অন্তহীন তমসায় আলোর প্রত্যয়-অভিজ্ঞান।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2014 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.