রবি ও রাজ : এক অধ্যায়
Abstract
জীবনস্মৃতিতে (১৯১২) রবীন্দ্রনাথ (১৮৬১-১৯৪১) লিখেছিলেন : লর্ড কর্জনের সময় দিল্লিদরবার সম্বন্ধে একটা গদ্যপ্রবন্ধ লিখিয়াছি – লর্ড লিটনের সময় লিখিয়াছিলাম পদ্যে। তখনকার ইংরেজ গবর্মেন্ট রুসিয়াকেই ভয় করিত, কিন্তু চৌদ্দপনেরো বছর বয়সের বালক কবির লেখনীকে ভয় করিত না। এইজন্য সেই কাব্যে বয়সোচিত উত্তেজনা প্রভূত পরিমাণে থাকা সত্ত্বেও তখনকার প্রধান সেনাপতি হইতে আরম্ভ করিয়া পুলিসের কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত কেহ কিছুমাত্র বিচলিত হইবার লক্ষণ প্রকাশ করেন নাই। টাইম্স্ পত্রেও কোনো পত্রলেখক এই বালকের ধৃষ্টতার প্রতি শাসনকর্তাদের ঔদাসীন্যের উল্লেখ করিয়া বৃটিশ রাজত্বের স্থায়ীত্ব সম্বন্ধে গভীর নৈরাশ্য প্রকাশ করিয়া অত্যুষ্ণ দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ করেন নাই৷ তবে বঙ্গভঙ্গ-আন্দোলনের কালে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় সম্পর্কে শাসনকর্তারা আর উদাসীন থাকতে পারেননি। বঙ্গভঙ্গ-আন্দোলনের সময়ে রবীন্দ্রনাথ বেশি জড়িয়ে পড়েন জাতীয় শিক্ষা- আন্দোলনের সঙ্গে, অবশ্য দুই আন্দোলনের সঙ্গেই তাঁর সম্পর্ক হয়েছিল স্বল্পকালস্থায়ী। জাতীয় শিক্ষা পরিষদ পরিচালিত জাতীয় বিদ্যালয়ের (বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজ অ্যান্ড স্কুল) প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন অরবিন্দ ঘোষ (১৮৭২-১৯৫০)। পারিবারিক সূত্রেও রবীন্দ্রনাথ তাঁকে জানতেন। তিনি যখন ইংরেজি Bande Mataram পত্রিকার সম্পাদনভার গ্রহণ করেন (১৯০৬), তখন রবীন্দ্রনাথ পত্রিকাটির প্রশংসা করেছিলেন। এই পত্রিকায় ১৯০৭ সালের ২৭ জুন সংখ্যায় প্রকাশিত রচনা রাজদ্রোহমূলক বলে বিবেচিত হওয়ায় অরবিন্দের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিনে মুক্তিলাভ করেন, তবে জাতীয় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষপদ ত্যাগ করেন। তাঁর উদ্দেশে এ-সময়ে রবীন্দ্রনাথ লেখেন 'নমস্কার' কবিতাটি [৭ ভাদ্র ১৩১৪/২৪ আগস্ট ১৯০৭] এবং তা বঙ্গদর্শন পত্রিকায় (আশ্বিন ১৩১৪) প্রকাশিত হয়। এর পরপরই শান্তিনিকেতনে গোয়েন্দা বাহিনীর লোকেরা হানা দেয়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2012 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.