বাংলাদেশের আদিবাসী কবিতায় উত্তর-ঔপনিবেশিক চৈতন্য
Abstract
ইউরোপে পুঁজিতন্ত্রের উদ্ভব ও বিকাশ এবং তাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে পুঁজির সম্প্রসারণ, মুনাফা অর্জন, বাজার-দখল ইত্যাদি আয়োজনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত উপনিবেশবাদ । অবশ্য কেবল অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠাই উপনিবেশবাদের পরিধি নয়, শোষণের স্বার্থে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা, সামরিক-বৌদ্ধিক-সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তার এবং উপনিবেশিত জাতি বা রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তনও এর অন্তর্ভুক্ত। উপনিবেশবাদের সর্বক্ষেত্রেই স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বিদেশি শাসক শ্রেণির মধ্যে নির্মিত হয় ক্ষতদায়ক এক মর্মান্তিক সম্পর্ক। এ প্রসঙ্গে ফ্রাঞ্জ ফানো বলেন : উপনিবেশবাদ শুধু জনগোষ্ঠীকে এর আয়ত্তাধীনে শৃঙ্খলিত করেই তৃপ্ত থাকে না, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মস্তিষ্কের বিকাশ ও ঘিলু অসার করে দেয়। কোন এক বিকৃতবুদ্ধি যুক্তির মাধ্যমে লাঞ্ছিত জনগোষ্ঠীকে পশ্চাৎপদ করা হয় এবং তাদের বিকৃত অবয়বহীন এবং ধ্বংস করা হয়। (ফ্রাঞ্জ, ২০০৬ : ২৮ ) ফানো ক্যারিবীয় অঞ্চলের স্থানীয়দের মানসিকতা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, সেখানে কার্নিভালের সময়ে কালো দাসেরা সাদা মুখোশ ব্যবহারের সুযোগ পেত। এবং এই সুযোগটি তারা উৎফুল্ল চিত্তে ব্যবহার করত। ফানো বলেন, কালো দাসদের দ্বারা সাদা মুখোশ পরে সাদা হয়ে ওঠার এই প্রবণতা অধিকাংশ কালো মানুষের মধ্যে প্রবল। তারা কেবলই তাদের সাদা প্রভুদের মতো হয়ে উঠতে চায়। (Frantz, 1967 : 13 ) উপনিবেশিতের মনের এ পতন ঔপনিবেশিক শাসনেরই প্রত্যক্ষ ফল। বস্তুত, ঔপনিবেশিক শক্তির আধিপত্যবাদী চারিত্র্যই উপনিবেশিতের মনে ঔপনিবেশিক সংস্কৃতির প্রতি সৃষ্টি করে এক অমোঘ টান ও শ্রদ্ধাবোধ এবং নিজ সংস্কৃতির প্রতি হীনম্মন্যবোধ।
Downloads
Downloads