বয়নে-বয়ানে বাংলা কবিতায় আবুল হোসেন
Abstract
নতুন কবিতা লিখবেন, এই স্বপ্ন নিয়ে তরুণ বয়সে আবুল হোসেন (১৯২২-২০১৪) একদা কবিতার দিকে পথ হাঁটা শুরু করেছিলেন। নবীনদের প্রতি আস্থা ছিল তাঁর উচ্চণ্ড। বাংলা কবিতার ভবিষ্যৎ উচ্চাভিলাষও তিনি দেখেছিলেন এই নবীনদের ঘিরে। তাঁর অগাধ বিশ্বাস ছিল - নতুন কবিতা লিখতে পারেন নতুনরা। পুরোনোরা মাঝে মাঝে ভালো লিখলেও নতুন লেখার ভঙ্গিটি চিরকালই করে গেছেন কোনো-না-কোনো নবীন কবি। (অনু, ২০০৩ : ১৭) নবীনরা লিখতে শুরু করেন নতুন সময়ের ভাষা ও অনুভূতির সমবায়ে। কবিতা লিখতে গিয়ে অনেক নবীন আবির্ভূত হন দোর্দণ্ড প্রতাপে। তাঁদের লেখার ভেতর আগামী দিনের সম্ভাবনার ছাপ ও থেকে যায়। নবীনদের কবিতা লেখার এই আবেগের আগুন সবার মধ্যে বেশি দিন জ্বলতে দেখা যায় না। কারোটা প্রথম দিকে আলো জাঁকিয়ে জ্বললেও একসময়ে হয় তা নিবুনিবু। কেউ হারিয়ে যান সময়ের ঝুলকালির ভেতর, কেউবা সৃষ্টির গুহা থেকে বেরিয়ে অন্য পথে হাঁটতে শুরু করেন। ফলে যাঁরা হৃদয়ের উত্তাপ দিয়ে একসময় যাত্রা করেন তাঁদের অনেকেরই আর এগোনো হয় না সামনের দিকে। এই প্রবণতা কমবেশি সব দেশেই চোখে পড়ে। একবার টি এস এলিয়টের (১৮৮৮-১৯৬৫) এক বন্ধু ২০-উত্তীর্ণ এক তরুণ কবির একটি ভালো কবিতা এলিয়টকে দেখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এলিয়ট বন্ধুকে উত্তরে সাফ জানিয়েছিলেন, ‘ওকে ওর চল্লিশ বছর বয়সে আসতে বোলো, তখনো যদি কবিতা লেখে তবে যেন সে আমার সঙ্গে দেখা করে।' (সৈয়দ হক, ২০০৫, ভূমিকা : ১১) সদ্যতরুণ কবিকে নিয়ে এলিয়টের এই মন্তব্যের পেছনে একটিই কারণ। নবীনরা যাঁরা লিখতে শুরু করেন তাঁদের অনেকেই শেষপর্যন্ত লেখার উত্তাপ ধরে রাখতে পারেন না। ফলে আর লেখা হয়ে ওঠে না । নবীন থেকে প্রবীণ বয়স-অবধি আমৃত্যু কবি হয়ে বেঁচে থাকবেন – এলিয়ট এমন কবিকেই আহ্বান জানিয়েছেন। এলিয়টের এই আহ্বান আবুল হোসেনের ক্ষেত্রে ভীষণভাবে সত্য বলে প্ৰতিষ্ঠা পায়।
Downloads
Downloads