অদ্বৈত মল্লবর্মণ : জীবন যখন সাহিত্য

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v52i1.1
Crossmark

Authors

Abstract

তিনটি উপন্যাস, চারটি ছোটগল্প, একটি উপন্যাসের অনুবাদ, কয়েকটা কবিতা-প্রবন্ধ- নিবন্ধ ও লোকসাংস্কৃতিক সংগ্রহ নিয়ে অদ্বৈত মল্লবর্মণের [১৯১৪-১৯৫১] সাহিত্যিক জীবন। তিতাসপাড়ের মৎস্যজীবী মল্লবর্মণ বা মালো পরিবারের সন্তান অদ্বৈত কেবল পেশার অভিজ্ঞতা নয়, দারিদ্র্য ও ব্রাত্যজনের প্রান্তিকতাবোধও লাভ করেছিলেন শৈশবাবধি। অদ্বৈতরা তিন ভাই ও এক বোন; শৈশবেই হারিয়েছেন পিতামাতা, দুই ভাই; যৌবনের সূচনায় এসে, ১৯৩৪ সালে কলকাতায় বসবাস শুরুর আগেই হারিয়েছেন একমাত্র বোনটিকে। মৃত্যুর সঙ্গে জীবনগতির সম্পর্ক অনুধাবনের ব্যাপারটি অদ্বৈতের ক্ষেত্রে তাই জৈবিক, রক্তমাংসে গেঁথে যাওয়ার মতো ব্যাপার। আর আছে পরিপার্শ্বের ক্ষমতার চর্চা ধর্ম-বর্ণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়, আরেক রূপ প্রকৃতিতে অপ্রতিরোধ্য জলে ও ডাঙায়; প্রত্যক্ষ উৎপাদন নয় এমন সংগ্রহের পেশায় প্রাকৃতিক নিয়মে চলে প্রবল ঘূর্ণাবর্ত – আর সমাজেও অর্থনীতির কেন্দ্র তো বহুদূর, এর তল খুঁজে পায় না মালোরা। সম্ভবত এ কারণেই অদ্বৈত স্বভাবত চাপা, সলজ্জ ও বিব্রত। মালোদের পেশার সঙ্গে শিক্ষার যোগসূত্র অর্থনৈতিক বা সামাজিকভাবে অনিবার্য নয়, অথচ ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনার প্রতি আগ্রহী হওয়ায় মালোসমাজই এবিষয়ে সম্মিলিতভাবে অদ্বৈতর দায়িত্ব গ্রহণ করে । সম্মিলিত এই বোধে সম্ভবত বহুমাত্রিক মুক্তির দিকনির্দেশনা প্রকাশ পায়। প্রত্যক্ষ একটি কারণ ছিল, লেখাপড়া জানা থাকলে মহাজনের খাতার লেখায় তাদের প্রতারিত হওয়া প্রতিহত করা যাবে অর্থাৎ ততদিনে 'কালা আখরের' মূল্য সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে এবং মালোরাও তার দ্বারা প্রলুব্ধ হয়েছে। আমরা জানতে পাই, দৃঢ়চিত্তের অদ্বৈত এই শুভচেতনার প্রতিদান দিতে চেষ্টা করেছেন উত্তরকালে, কলকাতায় বসবাসকালে তাঁর সামান্য রোজগারের কিছু অংশ তিতাসপাড়ের মালোপাড়ার স্কুল চালানোর জন্য খরচ করতেন।

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Published

2014-10-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

অদ্বৈত মল্লবর্মণ : জীবন যখন সাহিত্য . (2014). সাহিত্য পত্রিকা, 52(1), ৯-৪২. https://doi.org/10.62328/sp.v52i1.1

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%