রবীন্দ্রনাথের মানবভাবনা : অভিজাত ও ব্রাত্যের দ্বৈরথ
Abstract
মানুষের প্রতি গভীর বিশ্বাস এবং মনুষ্যত্বে আস্থার উপলব্ধি সমগ্র রবীন্দ্রসাহিত্যে নানাভাবে ব্যক্ত হয়েছে। দুই শতাব্দীর অভিজ্ঞতায় পরিসুত রবীন্দ্রনাথ সংকটে-সংগ্রামে নৈরাশ্যে- জাগরণে মানুষের প্রতি রেখেছেন শেষ নির্ভরতা। রবীন্দ্রসাহিত্যে মানুষের সামগ্রিক রূপ অখণ্ড মহিমায় উদ্ভাসিত। জীবনের প্রথম পর্যায় থেকে সুগভীর প্রত্যয় নিয়ে মানুষের যে মহিমান্বিত সত্তার প্রতি নিষ্ঠা রেখেছেন রবীন্দ্রনাথ, যুদ্ধোত্তর বিশ্বের ধ্বংস-বিপর্যয়ের অভিঘাতে সে-বিশ্বাস কম্পিত হলেও শেষাবধি কবি মনুষ্যত্বের প্রতি অবিচল থেকেছেন। রবীন্দ্রনাথ সাম্প্রতিক পৃথিবীর বিক্ষুব্ধ বাস্তবতায় মানুষের পৈশাচিক বর্বরতা এবং মানবসভ্যতার উগ্র আক্রোশে মর্মাহত হলেও মানুষই তাঁর সমগ্র জীবনবোধের কেন্দ্রীয় বিষয়। রবীন্দ্রসাহিত্যে মানুষ সম্পর্কে কবির এত ব্যাপক বিশ্লেষণী চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে যে, তাঁর সাহিত্যে কোনো বিশেষ দুর্লভ মুহূর্তেও মনে হয় না তিনি মানুষকে কখনো গৌণভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন বা মানুষের মধ্যে হতাশ হবার মতো কোনো নেতিবাচকতা বা হতাশার বীজ খুঁজে পেয়েছেন। মানুষ-সম্পর্কিত রবীন্দ্রভাবনার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে কবির নির্মোহ আত্মমূল্যায়ন। মানুষের সত্যিকার স্বরূপ কী, কী করলে মানুষের মধ্যে প্রকৃত মনুষ্যত্বের উদ্বোধন ঘটতে পারে, সভ্যতার অগ্রযাত্রায় ব্যক্তি বা সমষ্টিগত মানুষের কী অবদান থাকা প্রয়োজন, ব্যক্তি-মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে কী করে বিশ্বমানবের ধারণা গড়ে ওঠে এ সবই রবীন্দ্রনাথের মানবভাবনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2012 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.