প্রমথ চৌধুরীর ভাষাচিন্তা পুনর্মূল্যায়ন
Abstract
বাংলা লেখ্য ও কথ্য ভাষারীতির ক্রমবিবর্তনে প্রমথ চৌধুরীর নিবিড় ভূমিকাকে শতকান্তরে এসে খানিকটা ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে – এই অনুকল্প বর্তমান রচনার প্রেরণা। প্রায় শত বছর পূর্বে সাধুরীতির একাধিপত্যের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে চলতি রীতির পক্ষ অবলম্বন করে-যে প্রমথ প্রথা ভেঙেছিলেন, সে-কথা নিশ্চয় করে বলা কষ্টসাধ্য নয়। না- হলে 'সাধু'-র বিপরীত শব্দ হিসেবে 'চলতি' শব্দটি কেন তাঁর পছন্দ হবে! ‘চলতি' মানেই তো কোনো কিছুর চলমান অবস্থার ধারণা; চলতে চলতে সে পাল্টাবে এমনই তার স্বভাব। তাহলে এমনটি মেনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় যে, ক্রমপরিবর্তমান একটি ভাষারীতির আদর্শ নির্মাণই প্রমথের উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু তাঁর ভাষারীতি-ভাবনা নিয়ে এরূপ সরল মীমাংসায় উপনীত হওয়া সুবিবেচনাপ্রসূত হবে না। কেননা, চলতি রীতি বলতে যে ধরনের ভাষারীতির আদল তিনি গড়তে চেয়েছিলেন তা সহসাই পাল্টে যাক এমন দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর ছিল না। সবুজ পত্র-কে আশ্রয় করে গড়ে তোলা সেকালের নবীন ভাষাকাঠামো সৌধ- প্রতিম দৃঢ়তা নিয়ে বাংলা ভাষার চলার পথকে শাসন করে চলেছে দীর্ঘকাল— এমন বাস্তবতা সম্ভবত খোদ প্রমথ চৌধুরীর প্রত্যাশার সঙ্গে পূর্ণসদৃশ। অথচ, চলতি ভাষারীতির অভিধা-নির্দেশিত স্বভাবের সঙ্গে এরূপ প্রত্যাশার সংঘাত অনিবার্য আর এর সূত্র ধরে তাঁর ভাষারীতি-চিন্তার সংকটও ক্রমশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে যাচাই করে দেখার চেষ্টা হবে, ভাষা-পরিকল্পনার এই গুরুদায়িত্ব পালনে প্রমথের সার্থকতা ও সীমাবদ্ধতার সংযোগতলটি কীরূপ। একইসঙ্গে, নিজের প্রবর্তিত ভাষারীতি-কাঠামোকে তথা সেই ভাষারীতির প্রত্যাশিত প্রবণতাকে অটুট রাখার বিষয়ে তিনি নিজে কতটা সচেতন ছিলেন। এই লক্ষ্যে, উপাত্ত হিসেবে ব্যবহার করা হবে তাঁর উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন গল্পের পাঠ। অর্থাৎ, ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করে প্রমথ চৌধুরীর সৃষ্টিশীল গদ্যে আলোকপাতের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রবর্তিত চলতি রীতির আদর্শকে বিবেচনা করে দেখা হবে।
Downloads
Downloads