বাংলার লোকক্রীড়ায় বাদ্য
Abstract
খেলাধুলার সঙ্গে শরীর গঠনের সম্পর্ক রয়েছে এবং সংগীতের সাথে মনঃগঠনের সম্পর্ক রয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে মন সতেজ হলে তার কাছে সংগীত আরো প্রাণবন্ত হয়ে ধরা দেয়। সংগীত নৃত্যের সাথে বা অঙ্গ সঞ্চালনের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়ার সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে সংগীতও এক অর্থে শরীর গঠনে সহায়ক। প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন ক্রীড়ার আড়ালে রয়েছে মানুষের যাপিত জীবনের নানামাত্রিক প্রভাব। 'এক একটি লোকক্ৰীড়া হলো জীবনের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার সমন্বয়। এর বহিরঙ্গে আছে ক্রীড়াশৈলীর অবয়ব কিন্তু অন্তরালে আছে বিবর্তিত সময়ের স্বাক্ষর।' প্রাচীন রণবাদ্য যেমন জয়ঢাক, রণভেরি, মহানাকাড়া, মৃদঙ্গ, পাখোয়াজ, দুন্দুভি প্রভৃতি বাজানো সহজসাধ্য কাজ নয়; এর জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ে, দক্ষতার অর্জনের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হলো দক্ষতা অর্জনের সামর্থ্য রাখতে হয় এবং কসরত করে বাদনশৈলী উপস্থাপন করতে হয়। বাদনের দক্ষতা ও কৌশলকে একধরনের ক্রীড়ানৈপুণ্য বললেও অত্যুক্তি হবে না। বাদন বা পরিবেশনের জন্য যে পরিমাণ শক্তি ক্ষয় হয়, তা সঞ্চয়ের জন্য নিয়মিত কঠোর ব্যায়াম ও শারীরিক কসরত করে আত্মিক ও মানসিক সাবলম্বিতা অর্জন করতে হয়। প্রাচীন কালের সংগীতরীতিতে তাই সংগীতকলার সাথে কর্মযোগকে অপরিহার্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে। ক্রীড়া দৃঢ়তা আনে, জয়ের গৌরব বিজয়ীকে সংবেদনশীল করে। পরাজয়ের গ্লানি বিজিতকে ধৈর্যশীল ও সাহসী, সহিষ্ণু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে এবং মননশীলতার বিকাশ ঘটায়। একারণে নিত্য আবশ্যকীয় শিক্ষায় সংগীতচর্চার সাথে শরীরচর্চাকেও অপরিহার্য করা হয়েছে। সংগীতশাস্ত্র অন্বেষণ করলেও শরীরবিদ্যার নানা অধ্যায় পাওয়া যায়। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সৃষ্ট যোগ-সাধনায় সংগীত অপরিহার্য।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2015 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.