শতবর্ষে সবুজ পত্র
Abstract
সবুজ পত্র (১৯১৪) আর প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)-এ দুই ভিন্ন বিষয়কে এক ও অভিন্ন সত্তা বলায় ক্ষতি নেই। দুইয়ের মূল আসলে এক। কারণ প্রমথ চৌধুরীর আত্মপ্রকাশের জন্যে সবুজ পত্র ছিল অনিবার্য। আবার বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এ পত্রিকার যে ঐতিহাসিক মূল্য তার কৃতিত্বের কেন্দ্রে ছিলেন প্রমথ চৌধুরী। অমলেশ ত্রিপাঠী (১৯২১-১৯৯৮) আলংকারিক ভাষায় বলেন, প্রমথ চৌধুরী ছিলেন সবুজ পত্র-এর ‘প্রাণভ্রমর'। (ত্রিপাঠী, ১৯৯৩ : ৩২) কাজেই এ পত্রিকার কথা বলতে গেলে প্রমথ চৌধুরী আসবেন, অপরদিকে প্রমথ চৌধুরীর কথা তুললে সবুজ পত্র-এর কথা উঠবে। যেমন বঙ্গদর্শন (১৮৭২)-এর কথায় আসেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-৯৬), তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার (১৮৪৩) প্রসঙ্গে আসেন অক্ষয়কুমার দত্ত (১৮২০-৮৬)। কেননা তাঁরা এই সাময়িক পত্রিকাগুলির মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন, ভিত্তি দিয়েছিলেন বাঙালির নতুন আত্মপরিচয়ের, আশা জাগিয়ে তুলেছিলেন বাঙালির মনে । নতুন ভাষার ক্ষেত্রে, নতুন ভাবের ক্ষেত্রে, নতুন সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে, নতুন চিন্তা ও চেতনার ক্ষেত্রে তাঁদের সম্পাদিত এই পত্রিকাগুলির তুলনা হয় না। এগুলি যে কেবল নতুন আদর্শের ভিত্তি ছিল, শুধু তাই না, বাঙালির নতুন জীবনের স্বপ্নে ও আকাঙ্ক্ষায় এসবের মহত্তম অবদান নিত্য স্মরণযোগ্য হয়ে আছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2015 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.