‘আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস' : উত্তরাধুনিক পাঠ
Abstract
কথাসাহিত্যিক হিসেবে শহীদুল জহির (১৯৫৩-২০০৮) যে নিরীক্ষাপ্রিয় ছিলেন, এর প্রমাণ তাঁর উপন্যাসসমূহে থাকলেও বিভিন্ন ছোটগল্পে তা অপেক্ষাকৃত ভালোভাবে অনুধাবন করা যায়। প্রথম গল্পগ্রন্থ পারাপার-এর (১৯৮৫) পাঁচটি গল্পেই মার্কসীয় বীক্ষা হয়ে উঠেছিল তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। অথচ ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প (১৯৯৯) এবং ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প (২০০৪) গ্রন্থদ্বয়ে কোনো নির্দিষ্ট তত্ত্ব, দর্শন বা ভাবনাকেন্দ্রিক একাধিক গল্প অনুপস্থিত। সময়ের ব্যবধানে তিনি ক্রমশই ছোটগল্পের আধার ও আধেয় সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছিলেন। তাই গতানুগতিকতার পথ পরিহার করে নানারকম নিরীক্ষার প্রবণতা উক্ত দুটি গ্রন্থভুক্ত গল্পসমূহে লক্ষণীয়। এরই সূত্র ধরে তাঁর গল্পভুবনে উত্তরাধুনিক সাহিত্যভাবনার প্রভাব সম্পর্কে আলোচনার অবতারণা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে শহীদুল জহিরের অভিমত তাঁর প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রবন্ধ পাঠ করে তিনি উত্তরাধুনিক সাহিত্য সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন । শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের লেখকদের মধ্যে কে উত্তরাধুনিক গল্প লিখছেন, এ ধারার বৈশিষ্ট্যসমূহ” কী এবং তাঁর নিজের কোনো গল্পকে এর অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, এ ব্যাপারে তাঁর অভিমতও সাক্ষাৎকারে বিবৃত। তিনি নিজের লেখা যে গল্পটিকে উত্তরাধুনিক ছোটগল্প হিসেবে বিবেচনা করেছেন, সেটি হল 'আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস'। এটি শহীদুল জহিরের 'বহুল আলোচিত’" অথচ একমাত্র গল্প, যা তিনি নিজেই ইংরেজিতে অনুবাদ' করেছেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2015 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.