রবীন্দ্রনাথের ব্যাকরণ-ভাবনা ও ব্যাকরণ চর্চা
Abstract
উনিশ শতকের শেষ দশক পর্যন্ত বাংলা ব্যাকরণ মূলত ছিল প্রথাগত ব্যাকরণের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করে বাংলা ভাষার স্বকীয় শৃঙ্খলা আবিষ্কারের পরিবর্তে এ ধরনের ব্যাকরণ রচনা করতে গিয়ে সংস্কৃত পণ্ডিতেরা তাতে আরোপ করেছিলেন প্রচুর সংস্কৃত সূত্র, তাকে দিয়েছিলেন আনুশাসনিক রূপ। বাংলা যে একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন ভাষা এবং এর ব্যাকরণ-কাঠামো যে সংস্কৃত থেকে আলাদা তা এ সব সংস্কৃত পণ্ডিত মানতে পারেন নি। এ ধরনের প্রচুর ব্যাকরণ লেখা হয়েছিল। কিন্তু এগুলোকে রবীন্দ্রনাথ মেনে নিতে পারেন নি। এগুলো সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য ছিল নেতিবাচক। বাংলা ভাষার যে নিজস্ব ধ্বনি-পদ্ধতি, রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, বাক্যরীতি রয়েছে সে কথা জোরালো ও স্পষ্টভাবে তিনিই প্রথম ঘোষণা করেন। শরৎচন্দ্র শাস্ত্রী ভারতী পত্রিকার অগ্রহায়ণ ১৩০৮ সংখ্যায় ‘নূতন বাংলা ব্যাকরণ' নামে যে প্রবন্ধ লিখেছিলেন তার প্রতিক্রিয়ামূলক জবাবে রবীন্দ্রনাথ স্পষ্ট ভাষায় লিখেছিলেন, বাংলা ভাষা বাংলা ব্যাকরণের নিয়মে চলে এবং সে- ব্যাকরণ সম্পূর্ণরূপে সংস্কৃত ব্যাকরণের দ্বারা শাসিত নহে।” (রবীন্দ্রনাথ, ১৩৯১ : ১২১) বঙ্গদর্শন পত্রিকায় পৌষ ১৩০৮ সংখ্যায় প্রকাশিত 'বাংলা ব্যাকরণ' প্রবন্ধে তিনি লেখেন : 'প্রকৃত বাংলা ব্যাকরণ একখানিও প্রকাশিত হয় নাই। সংস্কৃত ব্যাকরণের একটু ইতস্তত করিয়া তাহাকে বাংলা ব্যাকরণ নাম দেওয়া হয়।” (রবীন্দ্রনাথ, ১৩৯১ : ২০)
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2015 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.