মুক্তিপথে একপর্বের আবর্তন
Abstract
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো প্রতিভাবান কবির আবির্ভাব একাধারে আত্মপরিচয়, যা মূলত অহং-লগ্ন, এবং নতুনতর পরিসরের সূচনা ঘটায়। সময়-সমাজ-সংস্কৃতিতে প্রতিভার মূল্য মানবিক উত্তরাধিকার অনুসন্ধানে, স্মৃতির সঙ্গে সত্তার যোগ সাধনে এবং ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে। প্রত্যক্ষভাবে এতে বস্তুগত উত্তরণ থাকে স্বল্প, অবস্তুগত সাংস্কৃতিক ও মননের গতিধারা বহমান থাকে ফল্গুস্রোতের মতো অথচ অফুরান। প্রতিভা শেষপর্যন্ত সাংস্কৃতিক স্মারক, প্রথাবদ্ধ জীবনকে এই প্রতিভা নতুন বিধি দেয়, জলাচল বাধা দূর করে এবং বৈচিত্র্যে আনে ঐক্য। যদিও মুক্তি প্রসঙ্গে বিতর্ক থাকতে পারে এর সংজ্ঞার্থ বা ব্যবহারোপযোগী মাত্রা নিয়ে, তবু জীবনের ধর্ম যদি গতি তাহলে বাধা অতিক্রমের চেষ্টা বা অতিক্রমের চেষ্টায় সফলতার নাম মুক্তি। জড়বস্তুর মুক্তির প্রসঙ্গ অবান্তর, প্রাণের ক্ষেত্রেই তা গ্রাহ্য; অস্তিত্ববানের আত্মপরিচয়, সময় ও উত্তরণধর্ম মিলে তৈরি হতে পারে মুক্তির ধারণা। মুক্তির জন্য নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া প্রারম্ভিক ও প্রধান শর্ত; প্রাণের চিন্তায় মুক্তির নিবন্ধন ঘটে, এরপর এই বোধ পরিসর খোঁজে। ব্যক্তির বৈশ্বিক যোগ আত্মসংযোগে ধন্য হতে গিয়ে আধ্যাত্মিকতার সংলগ্ন হয়। মনে রাখা প্রয়োজন, আধ্যাত্মিকতা মূলত প্রথাগতভাবে ধর্মীয় নয়। এজন্যই মুক্তির বস্তুগত দিক যেমন আছে তেমনি অবস্তুগত অনির্দিষ্ট, রহস্যময় নিরুদ্দেশ যাত্রাও থাকতে পারে। সময় ও উত্তরাধিকার আত্মস্থ মনের ধর্মই নির্ধারণ করে জীবনের গতিপথ, পরিণামে মুক্তির গতিপ্রকৃতি। রবীন্দ্রনাথের আবির্ভাবকাল, উত্তরাধিকার ও আত্মস্থ পদক্ষেপ বিষয় স্মরণে রেখে আমরা সন্ধ্যাসংগীত [১২৮৮] থেকে মানসী [১২৯৭] কাব্য পর্যন্ত রাবীন্দ্রিক যাত্রাপথের সঙ্গী হতে চাই, উদ্দেশ্য প্রত্যক্ষণ ও সন্ধান।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2012 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.