ধ্বনিগুণ (Sound attributes)

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v3i1.1
Crossmark

Authors

Abstract

ভাষার মূল ধ্বনিতে। তবু ভাবপ্রকাশের বাহন হিসেবে ভাষার ব্যবহার প্রত্যেকটি পৃথক ধ্বনি বাক্যের গতানুগতিক পদ্ধতির উদ্দেশ্য ও করতে গেলে ধ্বনি পৃথকভাবে উচ্চারিত হয়না। মধ্যে এক প্রাণ হ'য়ে সামগ্রিকতা লাভ করে। বিধেয় মূলক কর্তা কর্ম করণ সম্প্রদান অপাদান ক্রিয়া ইত্যাদি কারক বিভক্তি সম্পন্ন ব্যাকরণের আইনকানুন যুক্ত বৃহৎ বাক্যই হোক কিংবা ব্যবহার জীবনের প্রয়োজনানুযায়ী একাক্ষরিক শব্দবিশিষ্ট নেহাত একটি ছোট বাকাই হোক বাক্যে ব্যবহৃত ধ্বনি মানুষের মুখ নিঃসৃত হ'তে গিয়ে জীবন্ত মানুষের প্রাণের ছোঁয়া পেয়ে নানা ভাবে স্পন্দিত হয়। সেজন্যে বাক্যে ব্যবহৃত ধ্বনির দুটো রূপ আমরা প্রত্যক্ষ করি। একটা ভাষার মূলধ্বনিগত তার স্বতন্ত্র রূপ আর একটা মানুষের ব্যবহারিক জীবনের প্রয়োজনে উত্থিত জীবন্ত মানুষের আবেগানুভুতির স্পর্শ পাওয়া তার সামগ্রিক রূপ। এ দুই রূপে প্রত্যকটি ধ্বনি গুণান্বিত হয়। সাধারণভাবে প্রত্যেকটি ধ্বনির উচ্চারণের স্থান এবং উচ্চারণের প্রক্রিয়া উক্ত ধ্বনির স্বতন্ত্র রং ও রূপ (tamber) কে অন্যান্য ধ্বনি থেকে বিশিষ্ট ক'রে তোলে। এ যাবৎ ধ্বনির সেই বিচ্ছিন্ন রূপেরই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে আমরা দেখেছি উচ্চারণের স্থান বিচার ক'রে একটি ধ্বনি কিংবা ধ্বনিগুচ্ছ অন্য একটি ধ্বনি কিংবা ধ্বনিগুচ্ছ থেকে পৃথক হ'য়ে গেছে। আবার এক স্থান থেকে উচ্চারিত ধ্বনিগুচ্ছের প্রত্যেকটিই উচ্চারণ প্রক্রিয়ার সাহায্যে প্রত্যেকটি থেকে আলাদা হ'য়ে গেছে। এজন্যে উচ্চারণের স্থান বিচার ক'রে যেমন দুই ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনির ওষ্ঠতাকে তাদের বৈশিষ্ট্য জ্ঞাপক গুণ ব'লে আমরা মেনে নিয়েছি, ধ্বনির দস্তাত্ব, দন্ত মূলীয়ত্ব, দন্ত্যন্তষ্ঠত্ব, দন্তমূলীয়তালব্যত্ব, এবং পশ্চাৎ তালবাত্ব প্রভৃতি স্থানবাচক বৈশিষ্ট্য তেমনি ধ্বনির স্থানবাচকতা গুণ নির্ণয়ে আমাদের সাহায্য করেছে। স্থানবাচকতা ধ্বনির পৃথকীকরণ জনিত গুণ নির্ণয়ে সহায়ক হলেও তা ধ্বনিগুণের স্থলতর দিক উদ্‌ঘাটিত করে। এর তুলনায় উচ্চারণ প্রক্রিয়াজাত গুণ অক্ষেপ কৃত সূক্ষ্ম। তার কারণ এক স্থান জাত প্রত্যেকটি ধ্বনি এ প্রক্রিয়ার সাহায্যে প্রত্যেকটি থেকে পৃথক হ'য়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ বর্গীয় ধ্বনিগুলোর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ক, চ, ট, ত এবং প বর্গীয় যে কোন এক বর্ণের একটি ধ্বনি যে উক্তবর্গের আর একটি থেকে আলাদা হয় তা তার ঘোতা কিংবা অঘোষতার বৈপরীত্যে, মহাপ্রাণতা কিংবা স্বল্পপ্রাণতার বৈশিষ্ট্যে। অঘোষতা, ঘোষতা, স্বল্পপ্রাণতা, মহাপ্রাণতা ‘ক', 'গ' বৈশিষ্ট্য নিয়ামক হিসেবে পৃথক ভাবে যেমন এদের তেমনি স্পর্শতা (plosivity ), উষ্মতা (friction), স্পষ্টবৃষ্টতা (affrication) পার্শ্বত্ব (laterality), অনুনাসিকত্ব (nasality), তাড়নত্ব (Hapness), কাপুনি (rolling ), প্রভৃতি গুণ প্রত্যেকটি ধ্বনির স্বাতন্ত্র্যজ্ঞাপক। এ সব ধ্বনিগুণের প্রত্যেকটি পৃথকভাবে কিংবা গোটাদুয়েক মিলিতভাবে ধ্বনির নিম্নপর্যায়ে অর্থাৎ বাক্যঅসংলগ্ন ভাষার মূলধ্বনিকে একটি থেকে অন্যটিকে পৃথক করে দেয়। 

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.
1959-06-15

Published

1959-06-15

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

ধ্বনিগুণ (Sound attributes). (1959). সাহিত্য পত্রিকা, 3(1), 1-24. https://doi.org/10.62328/sp.v3i1.1

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%