মুসলমান কবি-রচিত জাতীয় আখ্যান-কাব্য
Abstract
মুসলমান কবি-রচিত জাতীয় আখ্যান কাব্যগুলোর মধ্যে সুপরিচিত হচ্ছে মহাকবি কায়কোবাদের মহাশ্মশান কাব্য। কায়কোবাদের মহাকবি নামে যে খ্যাতি এবং তার বিশাল কলেবর। কাব্যটি তারও অনেকটা অবলম্বন মহাশ্মশান কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে ঊনত্রিশ সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে চব্বিশ সর্গ এবং তৃতীয় খণ্ডে সাত সৰ্গ। ষাট সর্গে প্রায় নয়শ পৃষ্ঠার এই কাব্য বাঙলা ১৩১১, ইংরেজী ১৯০৪ সালে, প্রথম প্রকাশিত হয়। অবশ্য গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হতে কাব্যটির কয়েক বছর সময় লেগেছে। আসলে এর রচনাকাল ঊনিশ শতকের শেষ দিকে। কোহিনুর পত্রিকায় ১ম বর্ষ ২য় সংখ্যা, শ্রাবণ, ১৩০৫ (১৮৯৮ খ্রীষ্টাব্দ) সালে মহাশ্মশান প্রথম খণ্ডের প্রথম সর্গ প্রকাশ পায় এবং উক্ত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে কাব্যের কিছু অংশ প্রকাশিত হয়। এ সময়টাকে বাঙলা খণ্ডকবিতার স্বর্ণযুগ বলা চলে। রবীন্দ্রনাথের মানসী কাব্য প্রকাশিত হয় ১৮৯০ খ্রীষ্টাব্দে। ১৮৯৬ খ্রীষ্টাব্দে বাঙলা সাহিত্য চিত্রা কাব্যের মধ্য দিয়ে গীতিকবিতার এক বিশিষ্ট অধ্যায় সমাপ্ত করে এবং ১৯০১ খ্রীষ্টাব্দে নৈবেদ্য কাব্য প্রকাশিত হয়। কিন্তু আখ্যান-কাব্যের যে ধারা রঙ্গলাল প্রবর্তিত করেন তার প্রবাহ মহাশ্মশান কাব্য রচনাকালে একেবারে ক্ষীণ হয়ে পড়েনি। নবীন সেনের বহু আলোচিত 'ত্রয়ী' কাব্যের তৃতীয় খণ্ড 'প্রভাস' প্রকাশিত হয় ১৮৯৬ সালে । এদিক দিয়ে দেখতে গেলে কায়কোবাদের কাব্য যুগধর্মের বিরুদ্ধ-সৃষ্টি হয়ত নয়। তবে বিহারীলাল খণ্ড কবিতার যে ধারা প্রবর্তন করেন এবং রবীন্দ্রনাথ যার অপরূপ বিস্তার সাধন করেন সে ধারাকে অস্বীকার করতে গিয়েই যেন, মহাশ্মশান কাব্যের পরিধি এত বড় হয়ে উঠেছে। একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধযজ্ঞকে রূপায়িত করতে গিয়ে কবি বিশাল কাহিনী, ভয়াবহ সংঘর্ষ, গগণস্পর্শী দত্ত এবং মর্মভেদী বেদনাকে নানাভাবে চিত্রিত করেছেন। বিশালতার একটা মহিমা আছে। কায়কোবাদ সে মহিমাকেই রূপ দিতে চেয়েছেন মহাশ্মশান কাবো।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1960 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.