বিদ্যাপতি-বিচার
Abstract
বৈষ্ণব পদকর্তাদিগের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ বলিয়া যে বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাস সর্বত্র সমাদৃত, তাঁহাদের মধ্যে বিদ্যাপতি যখন মৈথিল-কবি বলিয়া নিশ্চিত প্রমাণিত হইয়া গিয়াছেন, তখন দুইজন সর্বশ্রেষ্ঠ পদকর্তার জন্মভূমি বলিয়া বঙ্গদেশের আর সে গৌরব করা সাজে না। বিদ্যাপতির শুধু জন্মভূমি হইলে বঙ্গদেশের যে গৌরব হইত, বিদ্যাপতির প্রধান আবিষ্কারক ও অনন্যসাধারণ রক্ষা-কারক বলিয়া বঙ্গদেশের উহা অপেক্ষা অনেক অধিক গৌরব ন্যায্য প্রাপ্য বটে। কথাটা একটু খুলিয়া বলা আবশ্যক। বর্তমান সময়ের আন্দাজ ৫৫০ বৎসর পূর্বে মিথিলার অন্তর্গত বিফি নামক গ্রামে ব্রাহ্মণ বংশে বিদ্যাপতি ঠাকুরের জন্ম হয়। বিদ্যাপতি অসাধারণ পাণ্ডিত্য ও কবিত্বের জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করিয়া ২৯৩ লক্ষণ সংবত অর্থাৎ খ্রীষ্টীয় ১৪০০ সালে মিথিলার রাজা শিবসিংহের নিকট হইতে উক্ত বিস্ফী গ্রাম দান-প্ৰাপ্ত হন৷ ঐ দানপত্রে বিদ্যাপতিকে “নব-জয়দেব-মহারাজ-পণ্ডিত ঠাকুর” উপাধি দ্বারা অভিহিত করা হইয়াছে। বিদ্যাপতি ঠাকুর বহু গ্রন্থ প্রণয়ন করিয়া গিয়াছেন; তন্মধ্যে সংস্কৃত ও ‘অবহঠ, ঠ’ (প্রাকৃত-জাত অপভ্রংশ ভাষাবিশেষ) মিশ্রিত ‘কীৰ্ত্তিলতা’, সংস্কৃত ভাষায় “বিদ্যাপতি-বিচার” প্রবন্ধটি শ্রীহট্ট হইতে প্রকাশিত অধুনালুপ্ত 'সোনার গৌরাঙ্গ’ নামক মাসিক পত্রিকাতে ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হইয়াছিল। আনার পিতার মৃত্যুর ফলে তিনি ইছা সম্পূর্ণ করিয়া যাইতে পারেন নাই। অনুসন্ধিৎসু পাঠক কলিকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ্ হইতে প্রকাশিত “পদকল্পতরু'র পঞ্চম খণ্ডে বিদ্যাপতির উপর তাঁহার লেখা অন্যান্য প্রবন্ধের সন্ধান পাইবেন। ‘সাহিত্য পত্রিকা'র সুযোগ্য সম্পাদক মুহম্মদ আবদুল হাই সাহেবের উৎসাহের ফলে “বিদ্যাপতি-বিচার” প্রবন্ধটি একসঙ্গে প্রকাশিত হইল। বাঙ্গালা সাহিত্যের পাঠক মাত্রেই এজন্য অধ্যাপক হাই সাহেবের নিকট কৃতজ্ঞ থাকিবেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1960 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.