আলবেরুনীর ভারত-তত্ত্ব
Abstract
জগৎকে “লোক” বলা হয়। উত্তম, অধম ও মধ্যম, এই তিন প্রাথমিক শ্রেণীতে। লোক”গুলি বিভক্ত। সর্বোচ্চ জগতের নাম “স্বরলোক”, অর্থাৎ স্বর্গ। নিম্নতম জগৎ হচ্ছে “নাগলোক”, অর্থাৎ সর্পরাজ্য। আসলে এটি নরক একে আবার “নাশ লোক” (?) আর কখনও কখনও 'পাতাল”ও বলা হয়। এই দুই এর মধ্যবর্তী যে জগৎ, যার মধ্যে আমরা বাস করি, তার নাম “মাদালাক” (? মধ্যলোক, মর্ত্যলোক?) কিংবা, “মনুষ্যলোক” অর্থাৎ মানবজগৎ। শেষোক্ত জগৎ মানুষের পুণ্য অর্জন করার জন্য আর সর্বোচ্চ লোক তার প্রতিফল পাবার স্থান। নিম্নতম লোক তার শাস্তির জন্য ধার্য। যে স্বর্গ বা নরকের যোগ্য হয় সে তার কর্মকালের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী তার ফল ভোগ করতে থাকে, কিন্তু এই দুই লোকের যে লোকেই সে থাকুক না কেন, দেহমুক্ত আত্মারূপেই সে থাকে, আর যার স্বর্গে যাবার অধিকার হয়নি অথচ নরকের শাস্তিও যার প্রাপ্য নয়, তার জন্য আর একটি জগৎ আছে যার নাম “তির্যক লোক”, অর্থাৎ বিবেকবুদ্ধি-হীন পশু ও বৃক্ষাদির জগৎ এই জগতের নিম্নতম প্রাণী থেকে জন্মান্তর আরম্ভ করে ক্রমশঃ ইন্দ্রিয়গুণ-সম্পন্ন মনুষ্য-জীবনের দিকে আরোহণ করতে হয়। এই “তির্যক লোকে” আত্মাকে বাস করতে হয়, হয় তার কর্মফল স্বর্গ বা নরক যাবার জন্য যথেষ্ট নয় বলে, নয়তো নরক থেকে সে প্রত্যাবর্তন করেছে বলে। কারণ এদের মতে আত্মা যদি স্বর্গ থেকে মর্তে আসে তাহলে মানব রূপেই সে আসে, কিন্তু নরক থেকে এলে তাকে প্রথমে বৃক্ষ ও পশু দেহে বিচরণ করে মানবদেহ ধারণের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1962 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.