জায়সী ও আলাওল : সিংহল দ্বীপ-বর্ণন-খণ্ডের তুলনা
Abstract
সিংহল দ্বীপ-বর্ণন খণ্ডে অনবরত বস্তু-বর্ণনার ক্রমিকতা লক্ষ্য করি। জায়সী সিংহল দ্বীপের সমস্ত স্বচ্ছল, আনন্দময় এবং সুন্দর রূপের চিত্রাঙ্কন করেছেন। নাম-বাচক শব্দের প্রসার এবং স্ফীতি এবং সঙ্গে সঙ্গে সমৃদ্ধমান বিশেষণের উল্লেখ এ-সর্গটিকে মূল্যবান করেছে। জায়সী সিংহলের দৃশ্যমান রূপের এবং সে-রূপের সঙ্গে সম্পর্কিত যে-মানুষ, তার ঐশ্বর্যের বিস্তৃত বর্ণনা করেছেন। বর্ণনার মধ্যে একটি যৌক্তিক পারম্পর্য আছে--প্রথমে প্রস্তাবনা এবং তারপর ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে প্রস্তাবিত সত্যের প্রমাণ এসেছে। প্রস্তাবনায় কবি বলছেন যে পৃথিবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ অঞ্চল হচ্ছে সিংহল দ্বীপ, যে-দ্বীপের সঙ্গে একমাত্র তুলনা চলে কৈলাসের। এ-অঞ্চলের সকল রমণীরাই দীপক। বস্তু-বর্ণন-কৌশলে সংস্কৃত কবিরা অত্যন্ত নিপুণ ছিলেন। তাঁদের বর্ণনা ইতিবৃত্তাত্মক' ছিলো না, সর্বত্র উপমা-উৎপ্রেক্ষা ব্যবহার করে বর্ণনাকে সজীব এবং চঞ্চল করেছেন। ভক্তি ও নিবেদনের ঐশ্বর্যে জায়সী ও তুলসীদাসের কাব্য মূল্যবান, কিন্তু তাঁরা কখনও তত্ত্বকে সৌন্দর্য-বিমুখ করেন নি। বিশেষ করে জায়সী সংস্কৃত কবিদের সমৃদ্ধবান এবং ঐশ্বর্যশালী বর্ণনার দ্বারা যে অভিভূত হয়েছিলেন, তার প্রমাণ বর্তমান সর্গেই কিছুটা পাই। কবি এখানে পাঠকের জ্ঞাতার্থে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বস্তুর নাম নিয়েছেন সন্দেহ নেই, কিন্তু কখনো কখনো সংশ্লিষ্ট যোজনা দ্বারা বস্তুকে মহার্ঘ করেছেন। তবে এ কথা সত্য যে বস্তুগণনায় সৌন্দর্য প্রকাশের অবকাশ কম, কবিকে এসব ক্ষেত্রে প্রধানতঃ রীতি-নির্ভর হয়ে পড়তে হয়। ঋতুর বর্ণনা দিতে হলে সেই ঋতুর সর্বপ্রকার ফল-ফুল, বৃক্ষ-লতা ও পক্ষী-পতঙ্গের বর্ণনা আসবে, বনের বর্ণনা দিতে হলে সর্বপ্রকার বন-বৃক্ষের বিবরণ আসবে, নগরের বর্ণনা দিতে হলে বাসগৃহ, দোকান-পাট, নিকুঞ্জ ইত্যাদির উল্লেখ আসবে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1962 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.