পদাবলী সাহিত্যে প্রেমের স্বরূপ
Abstract
আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে তথা পথে ঘাটে মাঠে “প্রেম” শব্দটির শোচনীয় লাঞ্ছনা দেখিতে পাইয়া ইহার ব্যাকরণগত ও মূল সাহিত্যগত আভিজাত্য বর্ণনার চেষ্টা না করিয়া থাকিতে পারিলাম না। সংস্কৃত প্রীঞ্ , ধাতু হইতে “আনন্দ দান করে” এই অর্থে কর্তৃবাচ্যে ক-প্রত্যয়ের যোগে “প্রিয়” শব্দ উৎপন্ন হইয়াছে। লৌকিক সম্পর্কে শৃঙ্গার রসে আনন্দ সর্বাধিক বলিয়াই বোধহয় অমরকোষে এই শব্দের প্রতিশব্দ দেওয়া হইয়াছে “ভর্তা”। মেদিনীকোষে এই শব্দের অর্থ পাওয়া যায় 'নর্ম’ অর্থাৎ অন্তরঙ্গ জন। ‘তাহার ভাব’–এই অর্থে ‘প্রিয়' শব্দের সহিত ইমন্ প্রত্যয়ের যোগে 'প্রেম' শব্দের উৎপত্তি হইয়াছে৷ এই স্থলে শ্রীকৃষ্ণের ‘জন্ম খণ্ড' হইতে এক শ্লোক উদ্ধত করিয়া শব্দকল্পদ্রুমে বলা হইয়াছে যে ত্রিজগতে কাহারো প্রিয় বা অপ্রিয় বলিয়া কেহই নাই; যথাসময়ে কার্যবশতঃ সকল প্রিয় ব্যক্তিই অপ্রিয় হইয়া উঠে। অর্থাৎ ত্রিভুবনে সর্বকালে ও সকল অবস্থায় সত্যিকারের প্রিয়জন বলিয়া কেহই নাই; স্বার্থের খাতিরে অপ্রিয়ও প্রিয় হয়, আবার স্বার্থের সংঘাতে প্রিয়ও অপ্রিয় হইয়া পড়ে। ব্যাকরণের এবং অভিধানের কথা এই পর্যন্তই থাকুক্৷ এখন দেখা যাক্ পদাবলীসাহিত্যে বৈষ্ণবাচার্যগণ কোন্ অর্থে এই শব্দটির বহুল ব্যবহার করিয়াছেন এবং সেখানে সত্যিকারের প্রিয় ব্যক্তির কোন সন্ধান পাওয়া যায় কিনা। প্রেমের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হইতে অনেক উচ্চে সাধনঘটিত নিগূঢ় আধ্যাত্মিক অর্থে চণ্ডীদাস ইহার প্রয়োগ করিয়াছেন। 'প্রেম' চণ্ডীদাসের কামগন্ধহীন ‘নিকষিত হেম’ রজকিনীপ্রেমের অপূর্ব অনুভূতি—যুগলপ্রেমের মূর্তপ্রতীক — মর্ত্যে হৈম অমরাবতী৷ ইহা পরমাত্মার সহিত জীবাত্মার রমণজনিত অতলস্পর্শ রস- সমুদ্রের কূলপ্লাবী দুর্নিবার ভাবোচ্ছ্বাস। সাধনাপরাঙমুখ ভক্তিহীন প্রাকৃতরতি ব্যক্তির ইহা ধারণারও অতীত।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1962 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.