ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা নাটকে জাতীয়তাবাদ
Abstract
পাক-ভারতের ভৌগোলিক পরিধি মহাদেশ তুল্য। সেইজন্যে সমগ্র ভারতকে অখণ্ড সাম্রাজ্যে পরিণত করে শাসনকার্য পরিচালনা করা খুব অল্প সময়েই সম্ভবপর হয়েছে। মহারাজা অশোক, হর্ষবর্ধন অথবা সম্রাট আকবর ইত্যাদি মহাবীরের পতাকা তলে মৈত্রীর বন্ধনে ক্ষণকালের জন্যে ভারতীয়েরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, কিন্তু আবার পর মুহূর্তেই শাসকের বিশেষ কোনও দুর্বলতার ছিদ্র পথ ধরে এ বিশাল সাম্রাজ্য আবার ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিশাল ভারতের এ দ্রুত রাষ্ট্র পরিবর্তন এবং বিভিন্ন পথে বিভিন্ন সভ্যতা, সংস্কৃতি ও কৃষিবাহী জাতির আগমনে ভারতবর্ষে জাতিগত ঐক্য গঠন দৃঢ় ভিত্তিতে সম্ভবপর হয় নি। অবশ্য এ কথায় স্বভাবতঃই প্রশ্ন জাগে—ভারতবাসীর মনে কি তা’হলে দেশপ্রেম ছিল না? জাতিগত, দেশগত অথবা রাষ্ট্রগত ঐক্য কি প্রাচীন ভারতে দুর্লভ ছিল? এই যে দেশপ্রেম বা জাতীয়তা বোধ—যার ফলে আমরা আজাদী লাভ করেছি, সে কি বিদেশীর দান? অবশ্য এক কথায় এ সমস্যা বা প্রশ্নের মীমাংসা অথবা উত্তর সম্ভব নয়। কারণ সর্বপ্রথম তাহলে আমাদের এ বিচারই করতে হয় জাতীয়তা বোধ কি? দেশপ্রেমই বা কাকে বলে? কি ভাবে বা উপায়ে মানুষের মনে এ বোধ জাগ্রত বা উদ্বুদ্ধ হয়? আধুনিক রাষ্ট্র বিজ্ঞান অনুযায়ী নানা কারণেই মানুষের মনে জাতীয়তা বোধ জাগ্রত হতে পারে৷ কখনও বা জাতিগত ঐক্য, কখনও বা ভাষাগত সাম্য আবার কখনও বা ধর্মীয় আদর্শগত অনুভূতির দ্বারা জাতীয়তার বন্ধন গড়ে ওঠে। অবশ্য জাতিগত ঐক্যই মানব সমাজকে সর্বাধিক দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করতে অক্ষম হয়। কখনও আবার নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা বিশেষ এক মানব গোষ্ঠীকে এক সূত্রে আবদ্ধ করে৷ আবার উপরোক্ত একাধিক কারণে জাতিগত ঐক্য গঠিত হয়। অবশ্য রাষ্ট্রীয় একতা বোধই জাতি গঠনে সর্বাধিক সহায়তা করে। একই জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যে আবদ্ধ হয়ে এক সৌভাগ্যে গর্বিত হওয়া এবং দুর্ভাগ্যের অভিশাপ ভোগ করা—একত্রে রাষ্ট্রের উত্থানে উন্নত হওয়া এবং পতনে ধ্বংস হওয়াই আমরা রাষ্ট্রীয় ঐক্য বলে গ্রহণ করে থাকি। অন্য কথায় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ঐক্যধারাই জাতীয়তা বোধ জাগ্রত করে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1962 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.