মধুমালতীর কাহিনী
Abstract
ভক্তিবাদের মতো সূফী ভক্তি মতবাদও একটি সৃজনধর্মী দর্শন। আন্দোলনের প্রবল বন্যায় ভারতের সাংস্কৃতিক জীবন হয়েছে উর্বর—গড়ে উঠেছে সখী, দোহা, পদাবলী, জীবনী-কাব্য-নাটক ও রস-শাস্ত্রের এক বিশাল সাহিত্য জগত। ইরানের সাহিত্যও সূফী-দর্শনের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত। সানায়ী, ফরিদউদ্দীন আত্তার, জলালউদ্দীন রুমী, নিযামী ও জামীর মরমী কবিতাগুলি বাদ দিলে ফারসী কাব্যজগত যে একেবারে দুর্বল হয়ে পড়ে. সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এই কবি-গোষ্ঠির মধ্যে কেউ কেউ কয়েকটি বিখ্যাত প্রেম-কাহিনীকে রূপকের ছাঁচে ঢেলে নিয়ে তাদের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক প্রেমের জয়গানে মুখর হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ নিযামীর ‘হফত্, পয়কর ত এবং জামীর 'ইউসুফ জোলায়খা' ও 'লায়লা মজনু' প্রভৃতির নামোল্লেখ করা যেতে পারে। মানবীয় প্রেম ও এ্যাডভেন্চার এ্যাডভেন্চার এই রূপক কাব্যগুলির বহিরঙ্গ; কিন্তু সূফী প্রেমসাধনার পরিণতি রূপে মানবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলনই এদের অন্তর্নিহিত ভাব-সম্পদ। মধ্যযুগের ইরানী সাহিত্য নগর-কেন্দ্রিক বিদগ্ধ মানসের সৃষ্টি বলে এর গণ্ডীর মধ্যে কোনো লোক-কাহিনীর অস্তিত্ব নেই। ফারসী কাব্যে তাই কোনো লোকগাথাকে সূফী মতবাদের চিত্রকল্পরূপে ব্যবহার করার প্রশ্নও ওঠে নি। ভারতের মরমী দর্শন ইরানের অবদান-প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ হলেও একটি ব্যাপারে এদেশের সাংস্কৃতিক জীবনে এক আশ্চর্য ব্যতিক্রম লক্ষণীয়-এদেশের সূফী কবিগণ প্রচলিত লৌকিক গল্পগুলিকেই মিটিক্ ভাবধারার আধার রূপে গ্রহণ করেছেন। সেকালের প্রায় প্রত্যেকটি অবধী কাহিনীকাব্যই সূফী রূপকল্পের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একথা অজানা নয় যে কুতবন ও মালিক মুহম্মদ জায়সী যথাক্রমে সুহরাওয়ার্দী ও চিশতী সম্প্রদাভুক্ত। দুজনেরই কাব্যে রয়েছে উভয় ত্বরিকার গুরু পরম্পরার সশ্রদ্ধ উল্লেখ। গণ-জীবনের সঙ্গে সুফী ধ্যান-ধারণার সংযোগ সাধনের উদ্দেশ্যেই যে তাঁরা আঞ্চলিক ভাষাকে এবং জনপ্রিয় লোক-গাথাগুলিকে মরমিয়া তত্ত্বের মাধ্যমরূপে ব্যবহার করেছেন, সে কথা প্রায় নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে। অনুরূপ কারণে দাকিনী উর্দু কে আশ্রয় করে দাক্ষিণাত্যে যে সাহিত্যের সৃষ্টি হয়েছে, তা শিয়া ভাবধারায় সম্পৃক্ত।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1963 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.