চর্যাপদের ভাষা

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v7i2.3
Crossmark

Authors

Abstract

বাংলা কাব্য-সাহিত্যের ঊষালগ্নে চর্যাপদের আবির্ভাব হয়েছিল। চর্যাপদেই বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম লক্ষণ উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই গীতিকাগুলি আবিষ্কারের কৃতিত্ব হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর। তিনি ১৯০৭ সালে নেপাল থেকে মূল পুথি সংগ্রহ করেন ও প্রায় দশ বৎসর পরে ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক উহা প্রকাশিত হয়। শাস্ত্রী মহাশয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সংগৃহীত পুথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্ত নামক পণ্ডিতের সংস্কৃত টীকা ছিল। পরে ডক্টর প্রবোধ চন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী অনুবাদ সংগ্রহ করে প্রকাশ করেন। বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন হিসাবে চর্যাপদ অনেক পণ্ডিতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রথম প্রথম এই গীতিকাগুলি আদৌ বাংলা ভাষায় রচিত কিনা তা নিয়ে অনেক বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। বিজয় চন্দ্ৰ মজুমদার History of Bengali Language বক্তৃতামালায় ১৯২০ সালে চর্যাগীতিকা হিন্দী ও উড়িয়া ভাষায় মিশানো বলে মত প্রকাশ করেন। কিন্তু ডক্টর সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে তাঁর বিখ্যাত Origin & Development of Bengali Language গ্রন্থে বিস্তৃত আলোচনা করে চর্যাগীতি যে বাংলা ভাষার আদিরূপ সে মত প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী পণ্ডিত ডক্টর চট্টোপাধ্যায়ের মত যুক্তিযুক্ত বলে গ্রহণ করেছেন। ইদানীং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাবিভাগের অধ্যক্ষ ডক্টর শশিভূষণ দাশগুপ্ত নেপালে প্রচলিত ‘চাগ’ গীতি নামক আধুনিক লোকগীতির সঙ্গে চর্যাপদের ছন্দ ও ভাষার মিল আবিষ্কার করেছেন। ডক্টর দাশগুপ্তের মতে এই গীতিকার ভাষায় বাংলাভাষার ত্রয়োদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী বিবর্তনের ছাপ আছে। তাঁর মতে এই গীতিকাগুলির সঙ্গে বৈষ্ণব পদাবলীর চেয়ে চর্যাপদের বেশী মিল আছে৷ এই হিসাবে ‘চাচাগীতি' চর্যাপদ ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মধ্যবর্তী যুগের বাংলা ভাষার নিদর্শন। এই গীতিগুলির সংখ্যা ২০।

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.

Published

1963-12-16

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

চর্যাপদের ভাষা. (1963). সাহিত্য পত্রিকা, 7(2), 86-106. https://doi.org/10.62328/sp.v7i2.3