বিবি কুলসুম
Abstract
মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা চারটি। এই এই শ্রেণীর রচনাকে ভিত্তি করে মীরের জীবনচিত্র আঁকতে হলে আরম্ভ করতে হয় ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা' দিয়ে । এই গ্রন্থের আত্মজীবনী-মূলক অংশের বর্ণনীয় বিষয় পিতামাতার দাম্পত্যজীবন ও নিজের বাল্যজীবনের কথা। ‘আমার জীবনী'তে পাব কিশোর যুবকের বিচিত্র অভিজ্ঞতার রূপায়ণ, ‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী'তে কর্মজীবনের ফিরিস্তি। 'বিবি কুলসুম' মীরের দাম্পত্যজীবনের আরশী। গ্রন্থটি একাধিক কারণে উল্লেখযোগ্য। এইটেই মীরের সর্বশেষ রচনা। পরিপূর্ণ সুখের সুদীর্ঘ দাম্পত্যজীবনের অবসান ঘটে প্রিয়তম পত্নী কুলসুমের মৃত্যুতে। স্বামী শোকার্ত হৃদয়ে মৃত পত্নীর জীবনী রচনা করেছেন ৷ আবেগের প্রবাহ প্রতিরোধ করার প্রবৃত্তিই তখন গ্রন্থকারের নাই। স্নেহ-ভালবাসার স্মৃতির দ্বারা তাড়িত হয়ে লেখক ঘরের এবং মনের এমন অনেক ছোটবড় কথা লিখে গেছেন যা হয়ত অন্যরকম মানসিক অবস্থায় উল্লেখ নাও করতে পারতেন। হৃদয়ের উচ্ছ্বাস ভাষাকে বেগবান করে তুলেছে। অনুভূতির আন্তরিকতা সামান্য কথনকেও এক বিশেষ উষ্ণতা দান করেছে। মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ সমূহের মধ্যে ‘আমার জীবনী'র পরই হয়ত 'বিবি কুলসুম' সর্বাপেক্ষা মর্মস্পর্শী রচনা। মীর-মানসের অবক্ষয়ের কালে 'বিবি কুলসুম'ই একমাত্র রচনা, যার মধ্যে গ্রন্থকারের পরিণত শিল্পচেতনার সকল চিহ্ন অবলুপ্ত নয়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1963 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.