রবীন্দ্র-সাহিত্যে রহস্যবাদ
Abstract
আধ্যাত্মিকতার সংজ্ঞা সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ তাঁহার 'সমাজ'গ্রন্থে লিখিয়াছেন, “আধ্যাত্মিক শব্দের শাস্ত্রসংগত ঠিক অর্থটি কী তাহা আমি নিঃসংশয়ে বলিতে পারি না; শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতমণ্ডলীর নিকট তাহার মীমাংসা প্রার্থনা করি। কিন্তু আধ্যাত্মিক শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘আত্মা সম্বন্ধীয়'। কোনো খণ্ডকালে বা খণ্ডদেশে যাহার অবসান নাই এমন যে এক অজর অমর সূক্ষ্ম সত্তা আমাদের অস্তিত্বের কেন্দ্রস্থলে বর্তমান, তাহা সহজবোধ্য হউক বা দুর্বোধ্যই হউক, তৎসম্বন্ধীয় যে-ভাব তাহাকে আধ্যাত্মিক ভাব বলে।” আবার “ভাষা ও সাহিত্যে' উল্লিখিত হইয়াছে, “মানুষের প্রধান বল আধ্যাত্মিক বল। মানুষের প্রধান মনুষ্যত্ব আধ্যাত্মিকতা। শারীরিকতা ও মানসিকতা দেশ কাল পাত্র আশ্রয় করিয়া থাকে। কিন্তু আধাত্মিকতা অনন্তকে আশ্রয় করিয়া থাকে। অনন্ত দেশ ও অনন্ত কালের সহিত আমাদের যে যোগ আছে, আমরা বে বিচ্ছিন্ন স্বতন্ত্র নহি, ইহাই অনুভব করা আধ্যাত্মিকতার একটি লক্ষণ।” তেমনিভাবে তাঁহার ‘কালান্তরে’ পাই : “আধ্যাত্মিক অর্থে ভারতবর্ষ একদিন বলিয়াছিল, অবিদ্যাই বন্ধন, মুক্তি জ্ঞানে—সত্যকে পাওয়াতেই আমাদের পরিত্রাণ। অসত্য কাকে বলে ? নিজেকে একান্ত বিচ্ছিন্ন করিয়া জানাই অসত্য। সর্বভূতের সঙ্গে আত্মার মিল জানিয়া পরমাত্মার সঙ্গে আধ্যাত্মিক যোগটিকে জানাই সত্য জানা।”
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1967 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.