Abstract
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগ যেখানে শেষ হ'ল সেইখানেই কিন্তু আধুনিক যুগ শুরু হ'লনা—ঐ শেষ ও শুরুর মাঝখানে রয়েছে প্রায় একশো বছরের ব্যবধান। কিন্তু সাধারণ নিয়মে তো এমনটি হওয়ার কথা নয়। কেননা সাহিত্য কখনো জীব-জন্মের নিয়মাবলী মেনে চলেনা, এবং একটা বিবর্তনের সূত্র ধ’রে ক্রমে ক্রমে নানা বিপরিবর্তনের মধ্য দিয়েই সাহিত্য লাভ করেছে তার আধুনিকতা। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতা স্বাভাবিক বিবর্তনের ফল নয়। কোনো অবস্থাতেই একথা সত্য নয় যে ভারতচন্দ্রের পর কবিওয়ালাগণের এবং গুপ্ত কবির সাহিত্য- সাধনার স্বাভাবিক বিবর্তন-ধারায় মাইকেলের আবির্ভাব হয়েছে। এক কথায় বাংলা সাহিত্যে ভারতচন্দ্রের যেমন কোনো উত্তরাধিকারী নেই, তেমনি মাইকেলের নেই কোনো পূর্বসূরী। মাঝখানে কবিওয়ালারা তবে কী ? ঠিক অনুরূপ প্রশ্নই ওঠানো চলে মুসলমান দোভাষী পুথি-লেখকদের সম্পর্কেও। মধ্যযুগের আলাওল, দৌলত কাজী প্রমুখ শক্তিশালী মুসলমান কবি দোভাষী পুথি লেখেননি ; একালের প্রথম মুসলমান কবি কায়কোবাদও দোভাষী পুথির মধ্যে আত্মপ্রকাশের কথা ভাবেননি। অথচ মাঝখানে একশ্রেণীর মুসলিম লেখক দোভাষী পুথি রচনা করেছেন—কবিওয়ালাদের গানের মতো মুসলিম সমাজে তা জনপ্রিয়ও হয়েছে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা যেমন দোভাষী পুথির বিবর্তিত রূপ নয়, তেমনি আলাওল দৌলত কাজী প্রভৃতি কবিদের রচনায় দোভাষী-পুথির ভাষার কোনো দূরতম পূর্বাভাসও লক্ষ্য করা যাবেনা। দোভাষী তবে কী? কেন এবং কেমন ক'রে তার উদ্ভব ? এই প্রশ্নেরই সুষ্ঠু মীমাংসা করেছেন ডক্টর কাজী আবদুল মান্নান তাঁর The Emergence and Development of Dobhasi Literature in Bengal গ্রন্থে। দোভাষী পুথি সম্পর্কে এটি একখানি সার্থক গবেষণা গ্রন্থ।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1967 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.