পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসে ফ্রয়েডীয় প্রভাব
Abstract
একজন যুগন্ধর মনোবিজ্ঞানীর তত্ত্ব ও দর্শন একজন কালজয়ী মহৎ কথাশিল্পীর সাহিত্যকে যে মহত্তর করে তুলতে পারে, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮- ১৯৫৬) তার প্রোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিল্পীজীবনের শুরুতে – অন্তত ১৯৪০ সাল পর্যন্ত - তিনি ছিলেন বিশ শতকের চিন্তাজগতের অন্যতম শীর্ষ নায়ক Sigmund Freud (১৮৫৬-১৯৩৯) দ্বারা বিপুলভাবে প্রভাবিত। মানিকের ঊনচল্লিশটি উপন্যাসের ভেতরে যে কয়টিতে ফ্রয়েডের প্রভাব প্রত্যক্ষ এবং প্রবল, পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬) সেগুলোর মধ্যে একটি। ফ্রয়েডের মতে, মানুষের নিয়ামক শক্তি হচ্ছে তার অবচেতন মনের জৈব চেতনা; পেটের ক্ষুধা এবং সেটি মিটে গেলে অতঃপর যৌনক্ষুধার পরিতৃপ্তির জন্যেই মানুষ ছুটোছুটি করে বেড়ায়। পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসে পদ্মার তীরবর্তী কেতুপুর-চরডাঙা-আমিনবাড়ি-আকুরটাকুর গ্রামে এবং সুদূর ময়নাদ্বীপে পরিব্যাপ্ত কাহিনি-পরিকল্পনায়; বহির্জীবনের বাস্তবতা চিত্রণে; কেন্দ্রীয় চরিত্র কুবের, কপিলা এবং পরিপ্রেক্ষিত চরিত্র রাসু, বসিরের স্ত্রী, এনায়েতসহ অপরাপর চরিত্রের মনোজগৎ সৃজনে-বিশ্লেষণে – সবত্রই – সিগমুন্ড ফ্রয়েডের প্রভাব প্রত্যক্ষ এবং প্রবল।
Downloads
Downloads