ওমর খৈয়ামের জীবনদর্শন ও নজরুল-মানস
Abstract
প্রাচ্যের বহুবিধ জ্ঞানভাণ্ডারের মত পারসিক কবি গিয়াসউদ্দীন আবুল ফহ্ ওমর ইবন্ ইব্রাহীম অল-খৈয়ামের সঙ্গেও আমাদের আত্মীয়তা ঘটেছে পাশ্চাত্য কবি, দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও প্রাজ্ঞ মনীষীবৃন্দের মাধ্যমে। ভারতবাসীকে একদা নবরূপে উপনিষদের মর্মকথা শুনিয়েছিলেন মসিয়ে দ্যু পেঁ; আর বিশ্ববাসীকে ওমরের কাব্যরস সুধার অপার্থিব সন্ধান দান করেছেন বিখ্যাত ইংরেজ কবি এড্ওয়ার্ড ফিজেরাল্ড। বাংলা কাব্যজগতে ওমর-মানসের পথ প্রবেশের ইতিহাসে ফিজেরাল্ডের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি একান্ত আবশ্যক। ফিজেরাল্ড শুধু কবি ন'ন তিনি ছিলেন একজন আত্মভোলা গবেষক; নির্জনে একা বসে পিয়ানোতে সুর তুলতেন, খেলাচ্ছলে বিভিন্ন রঙে ছবি আঁকতেন। এ দু'টি গুণ বা অনুভূতিই তাঁর কবিস্বভাবের বহিপ্রকাশ। মধ্য-যৌবনে দীর্ঘদিনের পরিচিতা লুসীকে বিবাহ করেন কিন্তু বছর না ঘুরতেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। প্রচুর বিত্ত ও ঐশ্বর্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও জীবনের বেশীর ভাগ সময় তিনি নির্জনে নিঃসঙ্গভাবে কাটিয়েছেন; প্রাসাদের মালিক হয়ে উদ্যানসংলগ্ন কুঁড়েঘরে বাস করেছেন। মার্টন রেক্টরীতে পৌত্র রেভারেণ্ড জর্জ ক্র্যাবের সঙ্গে ১৮৮৩ সালে তিনি সাক্ষাৎ করতে যান। ঐ বছর ১৪ই জুন চুয়াত্তর বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। বুল্জ পার্কের গীর্জা প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয় ১৯শে জুন। ১৮৮৪ সালে উইলিয়াম সিমসন খৈয়ামের কবরে প্রস্ফুটিত গোলাপ গাছের চারা নিশাপুর থেকে নিয়ে আসেন লণ্ডনে; কিউ গার্ডেনে যত্নে বর্ধিত ওই চারা ১৮৯৩ সালে ফিজেরাল্ডের কবরে রোপিত হয়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1978 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.