কবিতার কথা
Abstract
সকল শিল্পের মতোই কবিতা হচ্ছে এক ধরনের প্রতিস্পন্দন বা প্রতিবাক্য । যে কোনও অবস্থা, আচরণ, দৃশ্য আমাদের মনে প্রতিস্পন্দন সৃষ্টি করে। দৃষ্টিগ্রাহ্যতায়, শ্রবণে এবং পাঠক্রমগত বিবেচনায় আমাদের মনে প্রতিক্রিয়া জাগে। আমরা বিচিত্র উপায়ে এ-প্রতিক্রিয়াকে রূপ দেবার চেষ্টা করি----কখনও সঙ্গীতে, কখনও চিত্রকর্মে, কখনও ভাস্কর্যে, কখনও স্থাপত্যে এবং কখনও কবিতায়। যিনি স্থপতি তিনিও শিল্পী- তিনি হচ্ছেন সৌধ-শিল্পী। তাঁকে একটি ফাঁকা জায়গাকে নির্মাণ কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়—আভ্যন্তরীণ ও বহিঃপরিসরকে সমন্বিত করে অথবা বিশেষ পদ্ধতিতে সম্পর্কিত করে তিনি সৌধের রূপ-প্রকল্প নির্মাণ করেন। পারিপার্শ্বিক এবং অনির্মিত স্থানের শূন্যতা এবং মানুষের ইতিহাস তাঁর মনে যে প্রতিস্পন্দন জাগায়, সৌধের রূপ- প্রকল্পে তারই পরিচয় স্বাক্ষরিত হয়। চিত্রকর্মও জীবনেরই রূপবিন্যাস——রেখাঙ্কন এবং বর্ণের কৌশলগত প্রয়োগে চিত্রশিল্পী তাঁর দৃষ্টি এবং বিশ্বাসের প্রতিবিম্ব নিৰ্মাণ করেন। পৃথিবীর সকল বস্তুর উপর আপতিত সূর্যকিরণের কারণে বর্ণাঢ্যতার যে বিমণ্ডল ঘটে শিল্পীর অঙ্কিত চিত্রে তারই প্রতিস্পন্দন আমরা লক্ষ্য করি। এভাবে আমরা সঙ্গীত এবং ভাস্কর্যকেও প্রতিস্পন্দিত শিল্প হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারবো। আমাদের চিত্তের সর্বপ্রকার আবেগকে বিভিন্ন শ্রোত্রগত কম্পনে রূপান্তরিত করে সঙ্গীতশিল্পীও একটি প্রতিস্পন্দন নির্মাণ করেন। একজন ভাস্কর একটি ত্রিমাত্রিক বস্তুপুঞ্জ থেকে একটি গঠন বা আকৃতি নির্মাণ করেন জীবনগত চৈতন্যোদয়ের প্রতিশ্রুতি হিসেবে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1980 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.