উপনিবেশিত মানবের হৃত-শৈশব : মাহমুদুল হকের উপন্যাস
Abstract
স্বল্প ব্যাপ্তির মানব-শৈশব যখন তার আটপৌরে অর্থের খোলস পাল্টে নিয়ে জীবনের প্রতিস্পর্ধী হয়ে ওঠে তখন ‘শৈশব' শব্দবন্ধটি প্রতীকের মর্যাদা লাভ করে। ঔপন্যাসিক মাহমুদুল হকের জীবন-ভাবনাতেও ‘শৈশব' বিশেষ তাৎপর্যে প্রতীকায়িত; তাঁর কাছে ‘জীবন মানেই শৈশব; জীবন ভর মানুষ এই একটা ঐশ্বর্যই ভাঙিয়ে খায়, আর কোনো পুঁজি পাট্টা নেই তার'। মাহমুদুল হকের স্বল্পবিস্তৃত উপন্যাস-বিশ্বের প্রায় পুরোটা জুড়েই উপনিবেশের ঘা-খাওয়া মামুলি একদল মানুষের শৈশব হারানোর কাতরতা প্রকট হয়ে উঠেছে। উপমহাদেশের বারবার পাল্টে যাওয়া রাষ্ট্রীয় ভূগোল আর তাতে বেখাপ্পাভাবে বেড়ে ওঠা মধ্যবিত্তের জীবনাভিজ্ঞতা, যা নব্য-উপনিবেশিত চক্রান্তে ক্রমশ আবিল হয়ে উঠেছে তা-ই মূলত মাহমুদুলকে শিখিয়েছে কীভাবে উত্তর-উপনিবেশিত দৃষ্টি দিয়ে জীবনের সমার্থক হয়ে-ওঠা এই শৈশবের দিকে ফিরে তাকাতে হয়। শৈশবের সারল্যের আশ্রয় থেকে বিচ্যুত ও বিচ্ছিন্ন যে মানুষ বিরূপ বাস্তবের জটিলতায় আক্রান্ত, তারই কাতরোক্তি বারবার শোনা যায় মাহমুদুল হকের উপন্যাসে' (অরুণ, ২০১০ : ৫৮)। শৈশব-ই যদি মাহমুদুলের কাছে জীবন-সর্বস্ব রূপে প্রতীয়মান হয় তবে কি শৈশব হারানো জীবন মৃত্যুর নামান্তর? অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত এরূপ জীবন তাঁর উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি উপন্যাসেই ফিরে ফিরে এসেছে। আর প্রতি ক্ষেত্রেই ঔপন্যাসিকের বীক্ষণ-উপায় রূপে উত্তর-উপনিবেশবাদী বীক্ষা মুখ্য বিবেচিত হয়েছে যার কেন্দ্রে আছে ‘শৈশব' প্রতীক । উল্লিখিত এই প্রতীকের পাঠ বিশ্লেষণ বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধের লক্ষ্য।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2015 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.