বাঙলা ছন্দের বিবর্তন

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v24i1.1
Crossmark

Authors

Abstract

আগে ভাষা, পরে ছন্দ। ভাষার উচ্চারণ-ভেদেই ঘটে ছন্দের প্রকৃতি-ভেদ। কিন্তু বাঙল। ভাষার মূলগত উৎপত্তি এবং বাঙলা ছন্দের আদিমতম প্রকৃতি সম্বন্ধে আমাদের পণ্ডিত ও গবেষকগণ আজ পর্যন্তও একটা সঝোতায় উপনীত হ'তে পারেন নি। বাঙলা ভাষার প্রাথমিক রূপ ও বিকাশ সম্বন্ধে ভাষাচার্য শ্রীসুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন : প্রাকৃতের সৃষ্টি প্রথমে পূর্বদেশেই হয়। পূর্বদেশের এই প্রাচ্য ভাষার কোনও নিদর্শন পাই না, ''পূর্বীপ্রাচ্য বা মাগধী খুব সম্ভব খ্রী. পূ. চতুর্থ বা তৃতীয় শতকে বাংলাদেশে তার জড় গাড়তে সমর্থ হয়। তারপর সাত শ বছর ধ'রে মাগধী - প্রাকৃত আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছিল—বিহারী (ভোজপুরে মৈথিল মহী), বাঙলা, আসামী আর উড়িয়াতে ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছিল। এর পরের ধাপে আমাদের একেবারে বাঙলা ভাষার সীমানার মধ্যে পৌঁছিয়ে দিলে : ১০০০ খ্রীষ্টাব্দের দিকে, চর্যাপদের কালে, নবীন বাঙল৷ ভাষার উদয় হলো পক্ষান্তরে এ-সম্বন্ধে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ তাঁর ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' পুস্তকে বলেন : হিন্দু সেন-রাজগণ সম্ভবতঃ বাঙ্গালা ভাষার প্রতি বিদ্বিষ্ট ছিলেন। এই সময়ে ধর্মপূজার প্রবর্তক রামাঞ পণ্ডিত ধর্মপূজার আদিম বাঙ্গালা পদ্ধতি রচনা৷ করিয়া থাকিবেন। 'এই কালে বাঙ্গাল৷, আসাম ও উড়িষ্যায় জনসাধারণের মধ্যে দেশীয় সাহিত্যের চর্চা ছিল। সংস্কৃতির ঐক্যের কারণে এই তিন দেশে লোক- সাহিত্য ও ছন্দের ঐক্য দেখা যায়। খনার বচন, ডাকের বচন, এবং ধর্মমঙ্গল, মনসা-মঙ্গল ও চণ্ডীমঙ্গলের আদি কাব্য এই কালে রচিত হইয়াছিল। তাহার প্রভাব জয়দেবের গীতিগোবিন্দে লক্ষিত হয়। ... বাঙ্গালার আদিম অধিবাসী কোলজাতি আর্যভাষা ও আর্য সংস্কৃতি, ক্ৰমশঃ গ্রহণ করে। অন্যপক্ষে তাহাদের দ্বারা আর্যভাষা ও আর্য সংস্কৃতিও অল্পাধিক পরিমাণে প্রভাবান্বিত হয়। এইভাবে বাঙ্গালা জাতির ও বাঙ্গালা ভাষার গোড়াপত্তন হয়। স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন বাঙ্গালাকে মাগধী প্রাকৃত _ হইতে উৎপন্ন বলিয়াছেন। ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এই মত সমর্থন করিয়াছেন।

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.

Published

1980-12-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

বাঙলা ছন্দের বিবর্তন . (1980). সাহিত্য পত্রিকা, 24(1), 1-22. https://doi.org/10.62328/sp.v24i1.1