বাংলাদেশের কবিতায় অস্তিত্বচেতনার স্বরূপ
Abstract
কবিতা মানুষের অস্তিত্বসচেতন সামাজিক প্রয়োজনবোধ অতিক্রান্ত, সময়, ভূগোল ও চরিত্রনিরপেক্ষ কোনো এক শৈল্পিক মুক্তি, এবং কবিতা উপায় নয়, কেবল পরিণান, এমন উ চাঙ্গের সংস্কারকে একটা সংশয়হীন বিশ্বাসের মতো আমরা অনেকে লালন করি। অথচ কুসুম বৃক্ষ-জীবনের শৈল্পিক মুক্তি বা পরিণামসীমা নয়, তার অস্তিত্ববিষয়ক প্রয়োজনসিদ্ধিরও উপায়৷ প্রয়োজনসিদ্ধির মাপকাঠিতে বিচার করলে এ সত্যকে গোপন রাখা যায় না যে, রাজশিরে শোভিত কারুকার্যময় সোনার মুকুট থেকে কেবল শিল্পীর শিল্পনৈপুণ্য ও সৌন্দর্য মুগ্ধতা নয়, একই সঙ্গে সৌন্দর্যমুগ্ধতা রাজপ্রতাপও বিকীর্ণ হয়। রাজদরবারের দেয়ালে দোদুল্যমান হীরকখচিত সোনার তলোয়ার ব্যবহারিক গুণশূন্য প্রয়োজনাতিরিক্ত একটি উপভোগ্য নিরীহ শিল্পকর্ম বটে, কিন্তু দেয়ালে তার ঝুলন্ত অস্তিত্ব রাজ-হুমকির প্রতীক। অবশ্য আমর। স্বীকার করতে বাধ্য যে, কবিতা যাদুঘর বিতৃষ্ণ এমনি এক যাদু, যা' মন্ত্রতড়িৎ সঞ্চালনে রূপময় রাজদণ্ড, মানদণ্ড এবং পোষমান। ময়ূরের স্বর্ণদণ্ডকে পারস্পরিক রূপান্তরণের সম্মোহন-ক্রীড়ার উপযুক্ত। কবিতার যাদুকরী শক্তিতে আমরা বিশ্বাস করি, কেননা সম্মোহিত হবার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকি; এবং প্রস্তুতির এই অতিমনস্কতা সুকৌশলে ব্যবহারযোগ্য এই যাদুর উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে আমাদেরকে সচেতন হতে দেয় না।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1980 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.