সাঁওতালী ভাষার ক্রিয়া-সৃজক
Abstract
দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগুলির অন্যতম হচ্ছে সাঁওতালী। যে জেলায় আমি বর্তমানে বাস করি সেই এক মেদিনীপুরেই সাঁওতালী ভাষার সংখ্যা পাঁচ লক্ষাধিক। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার ভাষাবিজ্ঞানীদের নজর এদিকে এখনো বেশী পড়েছে বলে মনে হয় না ৷ অবশ্য বিগত শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে এই ভাষাটির বিশিষ্টতার প্রতি ইউরোপীয় মিশনারী, গবেষক এবং প্রশাসকরা অনেকেই বেশ আকৃষ্ট হয়েছিলেন। সামগ্রিকভাবে এই ভাষা চর্চায় প্রথম প্রয়াসী হয়েছিলেন আমেরিকান পাদ্রী ফিলিপ। তার পর প্রকাশিত হয়েছিল পাদ্রী সক্রেডের ব্যাকরণ। শেষ পর্যন্ত এই শতাব্দীর তৃতীয় দশকে পাদ্রী বোর্ডিং সাঁওতালী ভাষার এমন একটি ব্যাকরণ লিখলেন যা এখনো পর্যন্ত এই ভাষার উপর একটি প্রামাণ্য কাজ বলে গণ্য হয়ে থাকে। সন্দেহ নেই যে উল্লিখিত লেখকেরা সবাই তাঁদের অন্বিষ্ট বিষয়ে নিবিষ্টপ্রাণ ছিলেন এবং তাঁদের রচনাগুলি সবই হচ্ছে সারাজীবনের নিষ্ঠা ও গবেষণার ফল। তবে বিষয়বস্তুকে তাঁর৷ বিচার করে দেখে- ছেন তাঁদের নিজের নিজের ভাষা এবং ব্যাকরণের দৃষ্টিকোণ থেকে। কিন্তু সাঁওতালীর মত একটা ভাষার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ব্যাকরণের প্রচলিত পরিভাষার্থ যে যথোপযুক্ত নয় তা বোডিং গাহেবের কাছেও এমন স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছিল যে তাঁর ব্যাকরণের ভূমিকায় নির্দ্বিধায় তিনি মন্তব্য করেছিলেন—'ব্যাকরণের সাধারণ পরিভাষাই ব্যবহার করা হয়েছে (কিছু সংযোজন সহ)। তবে প্রত্যর-বিভক্তি যুক্ত ভাষার (Inflexional) থেকে আলাদা একটা বিকাশের স্তরে রয়েছে যে ভাষা, তার প্রয়োজনের পক্ষে এগুলো মোটেই যথোপযুক্ত নয়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1980 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.