সন্দেশ-রাসক [ আবদুর রহমান বিরচিত ]
Abstract
হিন্দীতে ‘রাস', ‘বাসে৷' এবং 'রাসক' এ শব্দ তিনটির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায় বিশেষ ধরনের কাব্যের ব্যাখ্যা-সূত্রে। কারও কারও ধারণা যে বীররস-প্রধান কাব্যেই হচ্ছে ‘রাসো’ কাব্য এবং বীররসেতর কাব্য হচ্ছে ‘রাস’। তবে একথা সর্বজনস্বীকৃত, ভারতীয় সাহিত্যে এ-ধরনের কাব্যকলার পরিচয় প্রাচীনকাল থেকেই আছে। ‘হরিবংশ পুরাণে' অস্পষ্টভাবে এবং ‘বিষ্ণুপুরাণে' স্পষ্টভাবে 'রাস' কাব্যের উল্লেখ আছে গোপালদের নৃত্যব্যাখ্যায়। ভাসের বালচরিত' নাটকে গোপাল এবং গোপিকাদের সম্মিলিত ক্রীড়ার বর্ণনা পাই ৷ তখন সম্ভবতঃ ‘রাস’ শারীরিক গতিব্যঞ্জনার লোকনৃত্য ছিলো। Types of Sanskrit Drama গ্রন্থে D. R Mankad লিখেছেন : “রাস is thus not to be derived from 3 but from a mood which means to cry aloud, which may refer to be very primitive form of dance when the proportion of music and artistic movemets may not have been still realistic and when it must have been practised as wild dance." অর্থাৎ “রাসে’র ব্যুৎপত্তি ‘রাস্' ধাতু থেকে হয়েছে যার অর্থ হচ্ছে উচ্চরোলে চিৎকার করা। আদিম যুগের নৃত্যের সঙ্গে এর সম্বদ্ধ ছিলে৷ যখন সঙ্গীতের মাত্রা এবং কলাত্মক গতি ব্যবস্থিত হয়নি। সে-সময় সম্ভবতঃ বন্য নৃত্য রূপে এর প্রচলন হয়েছিলো।” 'হর্ষচরিতে' 'রাস'-এর উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে 'রাস' এসেছে সঙ্গীত সংযোজনায় । অবশ্য বাণভট্ট ‘অশ্লীল রাসক পদানি' নামক এক প্রকার গানের উল্লেখও করেছেন যে-গান নারীকণ্ঠে গীত হত। ‘রাস' নৃত্যের সঙ্গে সঙ্গীতের প্রচলনের উল্লেখ শ্ৰীমদ্ভাগবতেও পাওয়া যায়—একটি শ্লোকে ধ্রুপদের স্পষ্ট উল্লেখ আছে। ক্রমান্বয়ে ‘রাস' বা 'রাসক' জনসমাজে বহুবিধ রূপে প্রকাশ পেতে লাগলো ৷ জনতার প্রসন্নতার জন্য জৈন মন্দিরেও একসময় 'রাসের প্রচলন হয়েছিলো। একাদশ শতাব্দীতে ‘রাস’ প্রধানতঃ সঙ্গীতরূপে উপস্থাপিত হতে লাগলো। উত্তর ভারতে এগুলো
কখনও কখনও ‘চর্চরী' নামেও অভিহিত হয়েছে। ‘কর্পূরমঞ্জরী'তে ‘দণ্ডরাস', ‘তালারাস্থ এবং আরও কয়েক প্রকার রাস-চর্চার উল্লেখ আছে। ৫ ভারতে এ-সময় গোয়ালীয়রের বাগগুহায় 'লগুড় রাসনৃত্যে'র একটি চিত্র অঙ্কিত হয়েছিলো।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1981 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.