নাথপন্থ-সহজপস্থ-বাউলগ

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v25i1.3
Crossmark

Authors

Abstract

নাথশৈব, বৈষ্ণবসহজিয়া ও হিন্দু-মুসলিম বাউলমত ইদানীং আপাত পৃথক মত ও সাধনা বলে মনে হলেও মূলে তিনটিই এক ও অভিন্ন উৎস—এবং তত্ত্বসম্ভূত। এ তত্ত্ব ও মতের জড় রয়েছে আদিম মৈথুন-তত্ত্বে ও টোটেম বিশ্বাসে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে দেখতে পাই পশু, পাখি ও বৃক্ষের নামানুসারে গোত্র ও ব্যক্তিনাম। তার রেশ আজো রয়েছে আমাদের সমাজে — তোতা, ময়না, চম্পা, বকুল, বাঘা, সিংহ, রোহিত নাম দুর্লভ নয়৷ মৈথুনতত্ত্ব ভিত্তি করে শাস্ত্র ও দর্শন গড়ে ওঠে মুখ্যত কৃষিজীবী সমাজেই। প্রাচীন মানুষের ধারণায় মৈথুন ও প্রজনন অঙ্গাঙ্গি সম্পর্কের। এবং সন্তান উৎপাদন ও ফসল উৎপাদনের পদ্ধতিও ছিল তাদের চোখে অভিন্ন। ফসল উৎপাদনের আবহসৃষ্টির প্রয়াসে জাভা, নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকোর আদিবাসীরা এবং ভারতের আদিবাসী সাঁওতাল, হো, মুণ্ডা, পাঞ্চা, কোটর প্রভৃতি আজো মৈথুন উৎসব করে। R. Briffault বলেন, "The assimilation of the fruit-bearing soil to the Child-bearing women is universal. The fecundity of the earth and the fecundity of women are viewed as being one and the same. ৩ আমাদের শাকম্ভরীদেবী আদ্যাশক্তি [প্রকৃতি দুর্গাপূজার ‘কলাবউ’ বা ‘শস্যবধূ' এবং দুর্গার অনদারূপ এ সূত্রে সাতব্য । এবং হরপ্পার সীলেও মিলেছে লতা-প্রসূতি এই নারীমূর্তি। ৪ সাংখ্যের পুরুষ-প্রকৃতি তত্ত্বের এবং হঠযোগের ও তান্ত্রিক সাধনার উৎস আর ভিত্তিও ঐ মৈথুনতত্ত্বে নিহিত। দেশী তত্ত্বের প্রভাবে আর্যমানসও এ তত্ত্বে আচ্ছন্ন হয়েছিল, তাই বাজসনেয়ী সংহিতায়, ব্রাহ্মণে, বৃহদারণ্যকে ও ছান্দোগ্যে আমরা মৈথুন, প্রজনন, জীবন, সম্পদ প্রভৃতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্বীকৃত দেখতে পাই। ছান্দোগ্যে মৈথুন যজ্ঞের সঙ্গে তুলিত হয়েছে—“হে গৌতম, স্ত্রীলোকই যজ্ঞীয় অগ্নি, তার উপস্থই সমিধ, ঐ আহ্বানই ধূম, যোনিই অগ্নিশিখা, প্রবেশ ক্রিয়াই অঙ্গার, রতি সম্ভোগই স্ফুলিঙ্গ।” এবং এ যজ্ঞের ফলে আয়ু, সন্তান, পণ্ড, কীর্তি ও মহত্ত্ব অর্জিত হয়। মন-মননের তথা সভ্যতা-সংস্কৃতির ক্রমবিকাশের ফলে স্থূল চেতনা ও চর্য। সূক্ষ্ম প্রতীকী রূপে আজো বিদ্যমান —তাই লতা, স্ত্রীভগ, যন্ত্র, মণ্ডল-চক্র, ভৈরবী চক্র, “গোপীচক্র, নৈশচক্র প্রভৃতি আজো সাধন-পূজনের অপরিহার্য অঙ্গ। ডালিম ও সিন্দুর যেমন রজঃপ্রতীক, পদ্মও তেমনি যোনিপ্রতীক। আদ্যাশক্তিই সৃষ্টি-সম্ভবা, তাঁর থেকেই পুরুষের উৎপত্তি। তার সঙ্গে অবিনাবদ্ধ হয়েই পুরুষ হয় শক্তিমান—তাই পুরুষ-প্রকৃতি তথা মায়া-ব্রহ্ম, শিব-উমা, বিষ্ণু-লক্ষ্মী, প্রজ্ঞা-উপায়, বজ্র-তারা, করুণা-শূন্যতা, রাধা-কৃষ্ণ প্রভৃতি নানা নামে ও বিভিন্ন তাৎপর্যে-দ্বৈত-অদ্বৈত রূপে দ্বয়-অদ্বয় চেতনায় সেই সৃষ্টিসম্ভব শক্তিস্বরূপ জগৎ-কারণ মৈথুনতত্ত্বেরই বিচিত্র বিকাশ দেখা যায়। এর বহুধা প্রকাশ দেখেছি সাংখ্যে, যোগে, তন্ত্রে এবং শৈব-শাক্ত-বৈষ্ণব-গাণপত্যে ও লিঙ্গায়েতে।

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.

Published

1981-12-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

নাথপন্থ-সহজপস্থ-বাউলগ. (1981). সাহিত্য পত্রিকা, 25(1), 50-53. https://doi.org/10.62328/sp.v25i1.3

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%