বাঙ্গালা বানান-সম্পর্কে কয়েকটি কথা

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v25i1.16
Crossmark

Authors

Abstract

কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এক বৎসরের মধ্যে “বাংলা বানানের নিয়মে”র পর পর তিনটি সংস্করণ প্রকাশিত করিয়া অন্ততঃ এটুকু প্রমাণ করিয়াছেন যে বাঙ্গালা বানানসংস্কারের আবশ্যকতা আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করিয়াছেন, একথা অবশ্য তাঁহারা বলেন নাই এবং বলিতেও পারেন না। কাজেই এ সন্বন্ধে আমাদের ও দু-চারিটি কথা বলিবার অবকাশ আছে মনে করি। বানান ব্যুৎপত্তিসঙ্গত কিংবা ধ্বনিসঙ্গত হওয়া উচিত। কিন্তু যদি বানান কিছু ব্যুৎপত্তি-সঙ্গত, কিছু ধ্বনিসঙ্গত হয়, তবে তাহ। খামখেয়ালি হইবে মাত্র, বৈজ্ঞানিক নিয়ম হইবে
না। উদাহরণ দিয়া বুঝাই—ইংরেজীতে knee, know, knife, knave ইত্যাদি শব্দে k উচ্চারিত হয় না। কিন্তু ব্যুৎপত্তির জন্য তাহার প্রয়োজন আছে। ব্যুৎপত্তিসঙ্গত বানানে k রাখা ঠিকই; কিন্তু যদি ধ্বনিসঙ্গত বানান চালাইতে হয় তবে k অবশ্যই বাদ দিতে হইবে। এইরূপ folk, chalk, calf ইত্যাদি শব্দে L উচ্চারিত না হইলেও ব্যুৎপত্তিসঙ্গত বানানে তাহা ব্যবহার করা কর্ত্তব্য। ইংরেজীর ধ্বনিসঙ্গত বানান-সংস্কার করিতে হইলে এই k, L সবই বাদ দিতে হয়। কিন্তু যদি কতকগুলি শব্দে এই অনুচ্চারিত বর্ণ রাখি আর কতকগুলিতে না রাখি কিংবা কেবল k বর্জন করি, L রাখিয়া দিই বা কেবল L বর্জন করি, k রাখিয়া দিই, তবে বানানের ভয়ানক অনিয়ম হইবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বানানের নিয়মে সেই অনিয়মই ঘটিয়াছে। ইহা আমি দেখাইতেছি। বিশ্ববিদ্যালয় ১০ নং নিয়মে বলিতেছেন, “মূল সংস্কৃত শব্দ-অনুসারে তদ্ভব শব্দে-শ ষ বা স হইবে, যথা—আঁশ (অংশু), আঁষি (আমিষ), শাঁস (শস্য)” ইত্যাদি। ইহা বুৎপত্তিসঙ্গত বটে। কিন্তু ৭ নং নিয়মে তাঁহারা বলেন, “অ-সংস্কৃত শব্দে কেবল ন হইবে, যথা—কান, সোনা” ইত্যাদি। অথচ ব্যুৎপত্তির জন্য কাণ (কর্ণ), সোণা (স্বর্ণ) এইরূপ বানানই সঙ্গত। ব্যুৎপত্তিসঙ্গত বলিয়া শ, ষ, স চলিবে, অথচ ণ চলিবে না—এ কি নিয়ম? হয় উভয় ক্ষেত্রেই বানান ধ্বনিসঙ্গত হইবে, না হয় ব্যুৎপত্তিসঙ্গত হইবে। আরও মজার কথা, কোন কোন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় “এ-ও হয়, ও-ও হয়” এই রকম স্বেচ্ছাচারের নিয়ম বা অনিয়ম করিয়াছেন। তাঁহার৷ ৫ নং নিয়মে বলেন, “যদি মূল সংস্কৃত শব্দে ঈ বা উ থাকে তবে তদ্ভব বা তৎসদৃশ শব্দে ঈ বা ঊ অথবা বিকল্পে ই বা উ হইবে, যথা—কুমীর, পাখী, বাড়ী, শীর্ষ, ঊনিশ, চুন, পূর্ব অথবা কুমির, পাখি, বাড়ি, শিষ, উনিশ, চুন, পুব।” ইহারও আবার ব্যতিক্রম (exception) আছে। ৬ নং নিয়মটি বেশ কৌতূহলজনক। তাহাতে আছে—“এই সকল শব্দে য না লিখিয়া জ লেখা বিধেয়—কাজ, জাউ, জাঁতা, জাঁতি, জুঁই, জুত, জো, জোড়, জোড়া, জোত, জোয়াল।” এই বানানগুলি ধ্বনিসঙ্গত। ব্যুৎপত্তি ধরিলে য লেখা উচিত হয়।

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.

Published

1981-12-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

বাঙ্গালা বানান-সম্পর্কে কয়েকটি কথা. (1981). সাহিত্য পত্রিকা, 25(1), 241-244. https://doi.org/10.62328/sp.v25i1.16

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%