গীতিকবিতার নির্ঝরিণী : স্যাফো
Abstract
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘কাব্যের মুক্তি' প্রবন্ধে কাব্যের বিবর্তনকে পৃথিবীর রূপান্তর-রহস্যের অনুরূপ কল্পনা করে বলেছেন -প্রাথমিক কবিতার উদ্ভব হয়েছিল কোনো ব্যক্তিবিশেষের মনে নয়, একটা মানবসমষ্টির মনে; প্রথম কবিতার প্রসার শুধু একটি মানুষের উপর নয়, সমগ্র জীবনের উপরে; প্রাথমিক কবিতার উদ্দেশ্য বিকলন নয়, সঙ্কলন। সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত কাব্যের বিশ্বম্ভর মূর্তি কেবল ক্ষয়ে গেছে, তার সেই নীহারিকার মতো আয়তন সৃষ্টির রীতিতে আজ কবি-রূপ উল্কাখণ্ডের মধ্যে আবদ্ধ । (সুধীন্দ্রনাথ, ১৯৯৫ : ১৩) প্রকৃতই মহাবিশ্ব যেমন এক মহাঘনীভূত শক্তি থেকে বিকিরণ প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র নীহারিকায় রূপান্তরিত হয়ে ক্রমশ উল্কার মতো সূক্ষ্মতর পরিণতির দিকে ধাবিত, কাব্যও তেমনি মৌখিক পরম্পরার সুবৃহৎ উৎস থেকে কালক্রমে আদি মহাকাব্যে, মহাকাব্য থেকে ব্যক্তিগত ধারায় অর্থাৎ মন্ময়তায় এবং মন্ময়তা থেকে আধুনিকতায় ক্রমাগত রূপান্তরশীল।
নীহারিকার মতো কাব্যের এই ক্রমাগত আয়তন সৃষ্টির রীতিতে মহাকাব্যিকতা থেকে গীতিধর্মিতায় উদ্বর্তনের পর্বটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক কবি দুই হাজার বছরেরও অধিক পূর্বের সেই কাব্য-সংক্রান্তির প্রতি উৎসুক, কারণ আধুনিক কবিতা সেই বিবর্তনেরই উত্তরাধিকার—আধুনিক কবি সেই মহান গীতিকবিদেরই উত্তরসাধক। সেই তো প্ৰথম কোনো চারণ কবি তাঁর সঙ্গ-নিঃসঙ্গতার কথা ব্যক্ত করেছিলেন নতুন শব্দ-ধ্বনিতে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2015 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.